ঢাকার মগবাজারে জামায়াত আমিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় একটি উচ্চ পর্যায়ের খ্রিস্টান প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানানো হয়। দলনেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে এই দলটি যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাবিদ ডা. গর্ডন ক্লিংগেনশমিটের নেতৃত্বে উপস্থিত হয়। সাক্ষাৎ শেষে দলনেতা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি জামায়াত ক্ষমতায় আসে তবে শারিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করা হবে না।
প্রতিনিধিদলে ন্যাশনাল খ্রিস্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মার্থা দাস, বাংলাদেশ ইভানজেলিক্যাল রিভাইভাল চার্চের চেয়ারম্যান রেভ. বনি বাড়ৈ, টিচার ফর পাস্টর ইন বাংলাদেশের ফরমার লেজিসলেটর ডা. গর্ডন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। দলটি ধর্মীয় সংহতি, সংখ্যালঘু অধিকার, পারস্পরিক সহাবস্থান এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখার বিষয়গুলোতে বিস্তৃত আলোচনা করে।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি বহুমূল্য ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজ, যেখানে সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত ইসলামী সব সময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
মার্থা দাস সাক্ষাৎ শেষে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতের নেতৃত্ব শারিয়াহ আইন বাস্তবায়নের বিরোধিতা করেছে, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। তিনি সংখ্যালঘুদেরকে নিজেদেরকে সংখ্যালঘু হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান এবং ছোট সম্প্রদায়গুলোকে সন্তানসদৃশ রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করেন।
রেভ. বনি বাড়ৈ বলেন, “আমরা দেশের খ্রিস্টান নাগরিক হিসেবে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই।” তার কথায় দেশের সামগ্রিক শান্তি ও ধর্মীয় সহনশীলতার প্রতি আস্থা প্রকাশ পায়।
সাক্ষাৎকারে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া শিক্ষাবিদ ডা. যুবায়ের আহমেদ এবং সংস্কৃতি ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানসুরও আলোচনায় অংশ নেন।
এই ঘোষণার রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট। শারিয়াহ আইন না বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি জামায়াতের জন্য সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন অর্জনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে, ধর্মীয় সংহতি বজায় রাখতে সরকারের নীতি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
দলটি এই অবস্থানকে জনমত গঠনে ব্যবহার করতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্বেগ দূর করার লক্ষ্যে। সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোও জামায়াতের এই প্রতিশ্রুতি যাচাই করে, বাস্তবায়নের জন্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, মগবাজারে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ধর্মীয় সংহতি ও সংখ্যালঘু অধিকার সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। জামায়াতের শারিয়াহ আইন না বাস্তবায়নের স্পষ্ট ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিপ্রকোপ সৃষ্টি করতে পারে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল ও নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।



