রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জেনারেল সেক্রেটারি সালাহউদ্দিন আম্মার ১৪ জানুয়ারি তার যাচাইকৃত ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশিত পোস্টে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের প্রতি কোনো রকম নমনীয়তা গ্রহণ করলে কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি লীগে সরে যাওয়া বা নরম দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়, তবে চেতনা ভেঙে হাতে ধরা হবে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই মন্তব্যের সঙ্গে তিনি আজ (১৪ জানুয়ারি) ঘটিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উল্লেখ করেন। জুলাই মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের এজাহারভুক্ত অভিযুক্ত রাবির অফিসার এবং আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ মোহাম্মদ পলাশ, পাশাপাশি আহসান হাবীবকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে রাবির সমর্থক ও বিএনপি-অনুগামী অফিসাররা দুই দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
সালাহউদ্দিন আম্মার পোস্টের শেষাংশে তিনি নিজেকে রাকসু জিএসের সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত সিনেট প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে, ক্যাম্পাসে তার দায়িত্বকালে লীগ থেকে সদস্যদের বাদ দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাবে বলে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং যদি লীগে নমনীয়তা দেখা যায়, তবে চেতনা ভেঙে হাতে ধরা হবে, ইনশাআল্লাহ।
রাকসু, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য নজরে এসেছে। জিএসের নেতৃত্বে ছাত্র রাজনীতির দিকনির্দেশনা ও জাতীয় পার্টির নীতি নিয়ে প্রায়ই তীব্র বিতর্ক দেখা যায়। এই প্রেক্ষাপটে সালাহউদ্দিনের সতর্কতা ছাত্র গোষ্ঠীর মধ্যে শক্তিশালী সাড়া ফেলেছে।
বিএনপি-অনুগামী অফিসারদের দুই দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি, রাবির গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে দেখছে। তারা দাবি করে, গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয় এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে। প্রতিবাদে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ও শ্লোগান তোলা হবে, যা ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্যবাহী রূপকে পুনরুজ্জীবিত করবে।
অন্যদিকে, রাকসু নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা এসেছে, যে তারা ক্যাম্পাসে লীগভিত্তিক কোনো নরমতা বা সমঝোতা গ্রহণ করবে না। জিএসের এই অবস্থান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে যখন দুই দলই শক্তিশালী সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে তুলছে।
সালাহউদ্দিনের মন্তব্যের পর, রাকসু সদস্যদের মধ্যে আলোচনা তীব্র হয়েছে। কিছু সদস্য বলছেন, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করা জরুরি, অন্যদিকে কিছু সদস্য জোর দিয়ে বলছেন, লীগভিত্তিক কোনো নরমতা স্বীকার করা হলে ছাত্র সংগঠনের স্বতন্ত্রতা ক্ষুণ্ন হবে।
এই পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ই নির্বাচনী সময়ে ক্যাম্পাসের ছাত্র গোষ্ঠীর সমর্থনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে। রাকসু ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোর অবস্থান, ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এই উত্তেজনা সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টিতে রয়েছে। ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা করতে, প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। তবে, তারা এখনও কোনো কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, রাবির গ্রেপ্তার ও ensuing প্রতিবাদ, পাশাপাশি রাকসুর কঠোর সতর্কতা, দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে একটি নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যদি দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে বজায় রাখে, তবে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার মানকে প্রভাবিত করবে।
সালাহউদ্দিনের পোস্টে উল্লেখিত ‘চেতনা ভেঙে হাতে ধরা’ রূপকটি, তার দৃঢ় অবস্থানকে প্রকাশের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এই রূপকটি রাজনৈতিক ভাষায় প্রায়ই ব্যবহৃত হয়, তবে এখানে তা স্পষ্টভাবে ছাত্র সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নীতি রক্ষার সংকল্পকে নির্দেশ করে।
সারসংক্ষেপে, রাকসু জিএসের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে লীগভিত্তিক কোনো নমনীয়তা না দেখিয়ে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, একই সঙ্গে রাবির গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি-অনুগামী অফিসারদের দুই দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষিত হয়েছে। এই দ্বিমুখী উত্তেজনা, দেশের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন মোড় আনতে পারে এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।



