গ্র্যামি পুরস্কারধারী গায়ক অ্যান্ডারসন .প্যাকের নতুন চলচ্চিত্র ‘K-Pops!’ এর ট্রেলার সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি কোরিয়ার সঙ্গীত প্রতিযোগিতা শো’র পটভূমিতে নির্মিত এবং টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ২০২৪ সালে প্রথম প্রদর্শিত হয়।
এই ছবির পরিচালনা, সহ-লেখা এবং প্রযোজনা সম্পূর্ণভাবে .প্যাকের দায়িত্ব, যা তার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও সঙ্গীত জগতের অভিজ্ঞতা একত্রিত করে। চলচ্চিত্রটি তার নিজস্ব সঙ্গীত ক্যারিয়ারকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে।
‘K-Pops!’ প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালের ট্রিবেকা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর, অর্যা এন্টারটেইনমেন্ট গ্রীষ্মে ছবির অধিকার অর্জন করে। এই অধিগ্রহণের ফলে ছবিটি আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছাবে।
চিত্রনাট্যটি স্ট্যাম্পিড ভেঞ্চারস এবং লাইভ নেশন প্রোডাকশনসের সমন্বয়ে তৈরি, যেখানে অ্যান্ডারসন .প্যাকের পাশাপাশি জোনি “ডাম্বফাউন্ডেড” পার্ক, ইয়েভেট নিকোল ব্রাউন এবং .প্যাকের বাস্তবিক কিশোর পুত্র সোল রাশিদ অভিনয় করেছেন। প্রধান চরিত্রে .প্যাক নিজেই ‘BJ’ নামের সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে উপস্থিত।
কাহিনীর মূল রূপরেখা হল, সঙ্গীতশিল্পী BJ তার ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবনের জন্য সিউলে একটি হাউস ব্যান্ডে যোগ দেন এবং একটি কেপপ প্রতিযোগিতা শোতে কাজ শুরু করেন। শোয়ের মধ্যে তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে নিজের হারিয়ে যাওয়া পুত্র তে ইয়ং (রাশিদ)কে পুনরায় খুঁজে পান, যিনি নিজেও সঙ্গীতের স্বপ্নে মগ্ন।
ট্রেলারে দেখা যায় .প্যাক কোরিয়ার ‘Wildcard’ নামের প্রতিযোগিতা শোতে কাজ করছেন। তে ইয়ং তার পিতার কাছ থেকে কেপপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, আর .প্যাকের চরিত্র সরলভাবে স্বীকার করে যে সে কেপপ সম্পর্কে কিছুই জানে না। এই সংলাপটি দুই চরিত্রের মধ্যে সেতু গড়ে তোলার সূচনা করে।
শোয়ের সময় BJ তে ইয়ংকে নিজের মতো দেখতে পান এবং ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন যে তে ইয়ং তার নিজের হারিয়ে যাওয়া পুত্র। শেষ পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি নিজের পিতৃত্বের সত্যতা স্বীকার করেন। এই আবেগময় মোড়টি ছবির মূল থিমকে জোরদার করে।
ফিল্মের ধারণা .প্যাকের কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় উদ্ভূত হয়। সেই সময় তার পুত্র ইউটিউবের মাধ্যমে নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশ করতে চায়, ফলে দুজনেই স্কিট তৈরি করা শুরু করে। .প্যাকের মতে, তার পুত্রের ত্বরিত ইমপ্রোভাইজেশন ক্ষমতা তাকে মুগ্ধ করে।
সেই সময় থেকে .প্যাক রাত জাগিয়ে ভিডিও রেকর্ড ও এডিট করতে থাকেন, যাতে তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আপলোড করতে পারে। বাড়িতে কেপপের প্রতি উন্মাদনা বাড়তে থাকে, যা পরিবারের সঙ্গীতপ্রেমকে আরও গভীর করে। .প্যাকের মা সম্পূর্ণ কোরিয়ান, আর তিনি নিজেও আংশিক কোরিয়ান বংশোদ্ভূত, যা ছবির সাংস্কৃতিক পটভূমিতে প্রাসঙ্গিকতা যোগ করে।
‘K-Pops!’ কেবল সঙ্গীত ও পারফরম্যান্সের জগৎই নয়, পারিবারিক বন্ধন ও স্ব-অন্বেষণের গল্পও তুলে ধরে। কোরিয়ান পপ সংস্কৃতির উজ্জ্বল রঙ ও সাউন্ডকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করে চলচ্চিত্রটি আধুনিক সঙ্গীত শিল্পের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগকে বিশ্লেষণ করে।
চলচ্চিত্রটি টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ২০২৪ সালের শীতকালীন সেকশনে প্রদর্শিত হওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রিবেকা উৎসবে তার আন্তর্জাতিক উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। অর্যা এন্টারটেইনমেন্টের অধিগ্রহণের ফলে ছবিটি বিশ্বব্যাপী স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশংসক ও সঙ্গীতপ্রেমীরা এই ছবিকে কোরিয়ান পপ সংস্কৃতির প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। ‘K-Pops!’ এর মাধ্যমে অ্যান্ডারসন .প্যাক তার সঙ্গীত ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারিক সম্পর্কের গভীরতা অন্বেষণ করছেন।
বিনোদন ও সঙ্গীতের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই চলচ্চিত্রটি কোরিয়ান সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহী দর্শকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় প্রস্তাবনা। আগ্রহী পাঠকরা ট্রেলারটি ইউটিউবে দেখতে পারেন এবং ছবির মুক্তির তারিখের অপেক্ষায় থাকতে পারেন।



