22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিহোয়াইট হাউসে ডেনমার্ক-গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, আর্কটিকের সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে

হোয়াইট হাউসে ডেনমার্ক-গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, আর্কটিকের সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে

বুধবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক ঘণ্টারও কম সময়ের গোপনীয় বৈঠক করেন। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অধিগ্রহণের দাবি, পাশাপাশি আর্টিক অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পরিকল্পনা।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসিত সরকার উভয়ই ট্রাম্পের পূর্বের ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে, দ্বীপটি বিক্রয়ের জন্য নয় এবং কোনো হুমকি অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে। এই অবস্থান বৈঠকে পুনরায় জোর দেওয়া হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে তিনি গ্রিনল্যান্ডকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য দ্বীপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি ডেনমার্কের সামরিক সক্ষমতাকে সমালোচনা করে, যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে বলে মন্তব্য করেন।

ডেনমার্কের সরকার ইতিমধ্যে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আর্টিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়ে দিয়েছে। নতুন বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ডেনিশ সশস্ত্র বাহিনী গ্রিনল্যান্ডে তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করবে এবং এটি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে করা হবে।

বিবৃতি অনুযায়ী, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন এবং নরওয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয়ে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অবকাঠামো ও কর্মী সরবরাহ করবে। নেটোও এই জোটের অংশ হিসেবে বিমান, জাহাজ এবং স্থল বাহিনীর সমন্বিত মোতায়েনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।

সুইডেন ইতিমধ্যে গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বুধবারের সংবাদ অনুযায়ী, সুইডিশ সশস্ত্র কর্মকর্তারা গ্রিনল্যান্ডের পথে রওনা হয়েছেন, যা আর্টিকের নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডেনমার্কের এই পদক্ষেপের পেছনে আর্কটিকের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং উত্তর ধ্রুবক অঞ্চলের সম্পদ অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে দেশগুলো তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই আলোচনার পটভূমিতে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যা ডেনমার্কের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে চাপের মধ্যে ফেলেছে। তবে ডেনমার্কের সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো বিক্রয় বা সশস্ত্র হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়।

বৈঠকের সময় ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা ও আর্কটিকের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা নেটোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

ডেনিশ সশস্ত্র বাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডে নতুন সামরিক ঘাঁটি ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যা শীতল জলবায়ু ও কঠিন ভূগোলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া হবে। এই অবকাঠামো ভবিষ্যতে বহুমুখী মিশন পরিচালনায় সহায়তা করবে।

নেটোর সমন্বিত মোতায়েনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং অন্যান্য মিত্র দেশগুলো একসাথে বিমান, জাহাজ এবং স্থল বাহিনীর সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও অপারেশন চালাবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য আর্কটিকের নিরাপত্তা ও শিপিং রুটের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বৈঠকের পর জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করে, কোনো বিক্রয় বা সশস্ত্র হুমকি না দিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনার গুরুত্বও উল্লেখ করেন।

এই বৈঠক এবং সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির পরিকল্পনা আর্কটিকের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে ডেনমার্ক ও তার মিত্র দেশগুলো কীভাবে সমন্বয় করবে এবং নেটো কীভাবে এই উদ্যোগকে সমর্থন করবে তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments