27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিইরানে স্টারলিংক ফ্রি করা, ব্যবহারকারীরা ঝুঁকিতে

ইরানে স্টারলিংক ফ্রি করা, ব্যবহারকারীরা ঝুঁকিতে

ইরানের সরকার গত বৃহস্পতিবার ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিল, ফলে লক্ষ লক্ষ নাগরিক পরিবার, কাজ এবং তথ্যের প্রবেশাধিকার হারাল। এই পরিস্থিতিতে স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট‑ভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক কিছু ব্যবহারকারীর জন্য মাসিক ফি মওকুফ করেছে। ফি না নেওয়া সত্ত্বেও টিউন করা ডিভাইসগুলো এখনও কাজ করছে, যা প্রতিবাদকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের সেতু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইন্টারনেট বন্ধের ফলে দেশের অভ্যন্তরে তথ্যের প্রবাহ সম্পূর্ণ থেমে যায়, আর প্রতিবাদ ও মানবিক সংকটের খবর বিশ্বে পৌঁছাতে কঠিন হয়ে পড়ে। এমন সময়ে স্টারলিংক একমাত্র বিকল্প হিসেবে কাজ করছে, যা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে ইন্টারনেট সরবরাহ করে।

স্পেসএক্সের মালিক এলন মাস্কের এই সেবা ইরানে অবৈধ হলেও, অনুমান করা হয় যে দশ হাজারেরও বেশি ব্যবহারকারী ইতিমধ্যে স্যাটেলাইট ডিশের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করেছে। সরকারী বন্ধের পর থেকে স্টারলিংক দেশের বাইরে তথ্য পাঠানোর শেষ, অথবা শেষের কাছাকাছি, মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্থানীয় দুই ব্যবহারকারী মঙ্গলবার রাতে ডিভাইস চালু রাখার কথা জানিয়েছেন, যদিও তারা সাবস্ক্রিপশন ফি পরিশোধ করেনি। একই সঙ্গে অনলাইন সংযোগে সহায়তা করা একটি সংস্থার পরিচালক স্টারলিংককে বিনামূল্যে চালু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।

স্পেসএক্সের অফিসিয়াল মন্তব্যের অপেক্ষা করা হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে ফি মওকুফের তথ্য ইতিমধ্যে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, যা সেবার ব্যবহার বাড়াতে পারে।

ইরানে স্টারলিংক ব্যবহার করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের ঝুঁকি থাকে, এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দলগুলো ডিশের সন্ধানে বাড়ি-ছাদে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রুফটপে ডিশ বসানো বা আশেপাশের ভবনগুলো পরীক্ষা করার খবর পাওয়া যায়, যা ব্যবহারকারীদের সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য করছে।

একজন ব্যবহারকারী, যাকে পারসা নামে পরিচিত, স্টারলিংক সংযোগের মাধ্যমে এই তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার বিশেষ করে সেই এলাকাগুলোতে নজর রাখছে যেখানে প্রচুর ভিডিও রেকর্ড হয়েছে, তাই ব্যবহারকারীদের আরও সতর্ক হতে হবে।

প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে স্টারলিংক একটি মহাকাশীয় মোবাইল টাওয়ার হিসেবে কাজ করে; এটি একাধিক স্যাটেলাইটের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছোট ডিশে সিগন্যাল পাঠায়, আর ডিশে সংযুক্ত ওয়াই‑ফাই রাউটার ব্যবহারকারীর ডিভাইসে ইন্টারনেট সরবরাহ করে।

ডিশের দাম এবং সেটআপের খরচ বেশ উচ্চ, যা সাধারণ ইরানি নাগরিকের পক্ষে সামলানো কঠিন। ফি মওকুফের ফলে এই ব্যয় কমে গেলে, আরও বেশি মানুষ সেবা ব্যবহার করতে পারবে এবং তথ্যের প্রবাহে নতুন দিক খুলে যাবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি টেলিভিশনে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন, তবে স্টারলিংক সম্পর্কিত তার বক্তব্য সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়নি।

সারসংক্ষেপে, ইন্টারনেট বন্ধের পর স্টারলিংকের ফি মওকুফ ইরানীয়দের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের সোপান হয়ে দাঁড়িয়েছে, যদিও ব্যবহারকারীরা আইনগত ঝুঁকির মুখে। ভবিষ্যতে এই সেবার বিস্তৃতি দেশের তথ্যপ্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক সংযোগে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments