20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ও জেনেভা ক্যান্টন ইনডোর পাইটো টেকনিক নিষিদ্ধ, ক্র্যান্স‑মন্টানা বার অগ্নিকাণ্ডের...

সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ও জেনেভা ক্যান্টন ইনডোর পাইটো টেকনিক নিষিদ্ধ, ক্র্যান্স‑মন্টানা বার অগ্নিকাণ্ডের পরিণতি

নতুন বছরের আগের রাতে ক্র্যান্স‑মন্টানা স্কি রিসোর্টের লে কনস্টেলেশন বারতে অগ্নিকাণ্ড ঘটায় ৪০ জনের মৃত্যু এবং ১১৬ জনের আঘাত। ঘটনাস্থলটি ভ্যালাইস ক্যান্টনের অন্তর্ভুক্ত এবং অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ক্যান্টনটি সকল ইনডোর পাবলিক স্থানে পাইটো টেকনিক ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

ভ্যালাইসের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে গেনেভা ক্যান্টনও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জানায়, যা ভৌগোলিকভাবে সুইজারল্যান্ডের ২৬টি ক্যান্টনের মধ্যে দু’টি ক্যান্টনকে অন্তর্ভুক্ত করে। ভৌড ক্যান্টন আগে থেকেই পাইটো টেকনিক নিষিদ্ধের প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিল, ফলে এখন এই নিষেধাজ্ঞা তিনটি ক্যান্টনে বিস্তৃত হয়েছে।

লেজ কনস্টেলেশন বারে অগ্নি শিখা ধরার কারণ হিসেবে স্পার্কলারযুক্ত শ্যাম্পেন বোতলকে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সিলিংয়ের সাউন্ড‑ইনসুলেটিং ফোম প্যাডিংকে জ্বালিয়ে দেয়। ফোমের দ্রুত দহনই অগ্নিকাণ্ডকে দ্রুত ছড়িয়ে দেয় এবং পুরো হলটি অল্প সময়ের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বারটি পাঁচ বছর ধরে কোনো নিরাপত্তা পরিদর্শন পায়নি, যা পরবর্তীতে পরিবার ও জনসাধারণের মধ্যে বিস্ময় ও রোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিরাপত্তা চেকের অভাবের তথ্য প্রকাশের পর ভিকটিমদের পরিবারগুলো শোক ও ক্রোধে ভরে ওঠে, বিশেষ করে যাঁদের সন্তান ১৬ বছরের নিচে।

বারের দুই সহ-মালিক, ফরাসি দম্পতি জ্যাক ও জেসিকা মোরেটি, অবহেলাজনিত হত্যা, অবহেলাজনিত শারীরিক ক্ষতি এবং অবহেলাজনিত অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। জ্যাক মোরেটি ৯০ দিনের প্রাথমিক আটককালীন শর্তে আটক রয়েছে, আর জেসিকাকে তার পাসপোর্ট জপাতে এবং প্রতিদিন পুলিশে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ, যেখানে আটজনের বয়স ১৬ বছরের নিচে। আহতদের মধ্যে অনেকেই তীব্র পোড়া ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন, ফলে স্বাস্থ্যের গুরুতর অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপের অন্যান্য দেশীয় হাসপাতালগুলোতে প্রায় আশি রোগী ভর্তি রয়েছে।

প্রতিটি শিকার পরিবারকে জরুরি সহায়তা হিসেবে ১০,০০০ ফ্রাঙ্ক (প্রায় ১২,৫০০ ডলার) প্রদান করা হবে, এবং তহবিল সংগ্রহের জন্য একটি স্বতন্ত্র তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই তহবিলের মাধ্যমে দান সংগ্রহ করে শিকারদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

শিকার পরিবারের আইনজীবীরা একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করার কথা জানিয়েছেন, যেখানে ঘটনাস্থল সম্পর্কিত সাক্ষ্য ও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই উদ্যোগটি সরকারি তদন্তের বিকল্প নয়, বরং তদন্তকে সমর্থন করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।

মৃতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ২৪ বছর বয়সী সায়ান প্যানিনে, যিনি ফ্রান্সের সেতে শহরের বাসিন্দা এবং বারটিতে কাজ করতেন। ভিডিওতে দেখা যায় তিনি হেলমেট পরিহিত অবস্থায় শ্যাম্পেন বোতলে স্পার্কলার জোড়া রেখে সিলিংয়ের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন, যা শেষমেশ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত করে।

অধিক তদন্তের জন্য স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থা একত্রে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে ক্যান্টনগুলোর নিরাপত্তা পরিদর্শন প্রক্রিয়া কঠোর করার পাশাপাশি পাইটো টেকনিকের ব্যবহার নিয়েও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই ঘটনার পর, সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ক্যান্টন নিরাপত্তা মানদণ্ড পুনর্বিবেচনা করছে এবং পাবলিক স্থানে অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন করছে। সরকারী ও বেসরকারি সংস্থাগুলো একত্রে শিকারদের পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধার কাজের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করছে।

সামগ্রিকভাবে, এই দুঃখজনক ঘটনা সুইজারল্যান্ডের পাবলিক নিরাপত্তা নীতি ও অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, এবং শিকারের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments