বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৩০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এনসিপি প্রার্থী ও দলীয় যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল আমিনের ওপর ফতুল্লা থানার কাশীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দেওভোগ বাঁশমুলি এলাকায় হিংসাত্মক আক্রমণের প্রচেষ্টা করা হয়। ঘটনায় এনসিপি দলের দুই কর্মী আহত হন এবং স্থানীয় গ্যাংয়ের সম্ভাব্য জড়িততা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত ফতুল্লা থানা মডেল এলাকার কাশীপুর ইউনিয়নের বাঁশমুলি গ্রামে। স্থানীয় থানা ওসি আবদুল মান্নান ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি জানেন এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন।
আল আমিন নির্বাচনী প্রচারসূচির অংশ হিসেবে ৪০ থেকে ৫০ জন কর্মীসহ গৃহস্থালির দরজায় দরজা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। তিনি বলেন, এই সময়ে একটি তরুণ ব্যক্তি তাদের অনুসরণ করতে থাকে এবং সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করা যায়।
প্রতিবাদী তরুণকে থামিয়ে পোশাকের ভেতর থেকে একটি ছোট বন্দুক বের করা হয়। অনুসন্ধানের সময় বন্দুকটি একটি চাপাতি হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং তা তরুণের গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়।
তরুণের সঙ্গে কথা বলার সময় সে দাবি করে যে তাকে অন্য কেউ অস্ত্র নিয়ে অনুসরণ করতে বলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলকে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে, যা এই ঘটনার পটভূমি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বন্দুকধারী তরুণ ও তার সঙ্গীরা মুহূর্তের মধ্যে একত্রিত হয়ে পরিস্থিতি উত্তেজিত করে। তবে স্থানীয় মানুষদের সহায়তায় আল আমিনকে নিরাপদ গাড়িতে চড়িয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে সাহায্য করা হয়।
এই গতি ত্বরান্বিত করার সময় দুই এনসিপি কর্মী— ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব মারুফ সরকার (২১) এবং ফতুল্লা থানা কমিটির সংগঠক আবু তাহের— আহত হন। উভয়েই প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আল আমিন ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ প্রশাসনের নজরে আনার পর দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস পেয়েছেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর কোনো সন্দেহভাজনকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা যায়নি। ওসি মান্নান জানান, দল পাঠানো সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং এখন তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।
অনুসন্ধান চলাকালে সংশ্লিষ্টদের সনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে থানা কর্তৃপক্ষের মন্তব্য। তদন্তের ফলাফল ও দায়িত্বশীলদের শাস্তি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
এই ঘটনা নির্বাচনী সময়ে রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। এনসিপি দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং গ্যাং সংক্রান্ত অপরাধ দমনকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় এ ধরনের হিংসা রোধে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।



