অ্যারিয়ানা গ্র্যান্ডে এবং জোনাথন বেইলি, যাঁরা সম্প্রতি ‘উইকেড’ ছবিতে গ্লিন্ডা ও ফিয়েরো চরিত্রে একসাথে কাজ করেছেন, লন্ডনের বার্বিকান থিয়েটারে ২০২৭ সালে পরিকল্পিত ‘সানডে ইন দ্য পার্ক উইথ জর্জ’ মিউজিক্যালের পুনর্নির্মাণে অংশ নিতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুজনই ইনস্টাগ্রাম-এ শেয়ার করা এক ছবিতে স্যুয়ারের বিখ্যাত চিত্রের সামনে বসে আছেন, যেখানে শোয়ের একটি গানের লাইন উল্লেখ করা হয়েছে।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে দুজনকে স্যুয়ারের ‘এ সানডে আফটারনুন অন দ্য আইল্যান্ড অফ লা গ্র্যান্ড জাট’ চিত্রের সামনে বসে দেখা যায়, এবং ছবির ক্যাপশনে শোয়ের একটি গানের লাইন উল্লেখ করা হয়েছে। এই দৃশ্যটি উভয়ের ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ এটি দুজনের মধ্যে নতুন কোনো থিয়েটার প্রকল্পের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‘সানডে ইন দ্য পার্ক উইথ জর্জ’ মূলত স্টিফেন সোনডহাইম এবং জেমস ল্যাপিনের রচনা, যা ১৯৮৪ সালে ব্রডওয়ে মঞ্চে প্রথম উপস্থাপিত হয়। সোনডহাইমের সুর ও ল্যাপিনের নাট্য রচনা মিলে এই মিউজিক্যালটি নাট্য জগতের ক্লাসিক হিসেবে স্বীকৃত।
লন্ডনে এই মিউজিক্যালের পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা বার্বিকান থিয়েটারের জন্য গুজবের বিষয়, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সূত্র অনুযায়ী ২০২৭ সালে এই পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে স্থান ও সময়সূচি সম্পর্কে এখনও স্পষ্টতা নেই।
অ্যারিয়ানা ও জোনাথন পূর্বে ‘উইকেড’ ছবিতে গ্লিন্ডা এবং ফিয়েরো চরিত্রে একসাথে কাজ করেছেন, যা দুজনের মধ্যে একটি পরিচিত জুটি গড়ে তুলেছে। এই ছবির সিক্যুয়েল ‘ফর গুড’ তেও দুজনের পারফরম্যান্স দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেছে।
অ্যারিয়ানা গ্র্যান্ডে গত বছর এক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে অস্কার নোমিনেশন পেয়েছিলেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম উচ্চ শিখর হিসেবে বিবেচিত। এই অর্জন তার গায়ক ও অভিনেত্রী হিসেবে বহুমুখী দক্ষতা তুলে ধরেছে।
থিয়েটার মঞ্চে ফিরে আসার সম্ভাবনা উভয়ের জন্যই নতুন চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। ‘উইকেড’ এর জাদু থেকে বেরিয়ে এসে লন্ডনের মঞ্চে পারফরম্যান্স করা মানে তারা নতুন দর্শকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবেন।
‘সানডে ইন দ্য পার্ক উইথ জর্জ’ মিউজিক্যালটি ফরাসি চিত্রশিল্পী জর্জ স্যুয়ারের ‘এ সানডে আফটারনুন অন দ্য আইল্যান্ড অফ লা গ্র্যান্ড জাট’ চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত। শোতে স্যুয়ারকে এক কাল্পনিক চরিত্রে রূপান্তরিত করা হয়েছে, যিনি তার শিল্পকর্মে মগ্ন হয়ে যান।
শোয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্র জর্জের প্রেমিকা ডট, যাকে মিউজিক্যালের নারী প্রধান ভূমিকায় দেখা যায়। গল্পের অগ্রগতিতে জর্জের শিল্পের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি তাদের সম্পর্ককে ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়।
অ্যারিয়ানা গ্র্যান্ডে ২০২৬ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে লন্ডনের ও২ অ্যারেনায় দশটি কনসার্টের পরিকল্পনা করেছেন, যা তার ‘ইটার্নাল সানশাইন’ ট্যুরের অংশ। এই কনসার্টগুলো তার ভক্তদের জন্য বড় অপেক্ষা, এবং লন্ডনে তার উপস্থিতি মিউজিক্যালের প্রচারেও সহায়তা করবে।
গত নভেম্বর মাসে তিনি তার ভক্তদের জানিয়েছিলেন যে এই ট্যুর সম্ভবত দীর্ঘ সময়ের জন্য শেষ হতে পারে, তবে ইনস্টাগ্রাম-এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক পোস্ট থেকে স্পষ্ট হয় যে তিনি মঞ্চে ফিরে আসতে ইচ্ছুক। এই তথ্য তার ভক্তদের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়ে তুলেছে।
বার্বিকান থিয়েটারকে এই মিউজিক্যালের সম্ভাব্য রিলঞ্চ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে যদি এই প্রকল্প নিশ্চিত হয়, তবে এটি লন্ডনের থিয়েটার জগতের জন্য একটি বড় সংযোজন হবে।
অ্যারিয়ানা ও জোনাথনের এই সম্ভাব্য মঞ্চে পুনর্মিলন নাট্যপ্রেমী ও পপ সংস্কৃতির ভক্তদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ সংবাদ। দুজনের পারফরম্যান্সের গুণমান ও ক্যারিশমা মিউজিক্যালের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।
লন্ডনের থিয়েটার প্রেমিকরা এখন এই দুজনের পারফরম্যান্সের অপেক্ষায়, এবং বার্বিকান থিয়েটার থেকে শীঘ্রই কোনো নিশ্চিতকরণ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মিউজিক্যালের পুনর্নির্মাণে যদি দুজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়, তবে এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
এই মিউজিক্যালের পুনরায় মঞ্চস্থ হওয়া স্যুয়ারের শিল্পকর্মের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দেবে, এবং একই সঙ্গে আধুনিক সঙ্গীত ও নাট্যশৈলীর সংমিশ্রণ ঘটাবে। দুজনের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এই ক্লাসিক কাজটি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাবে।
সারসংক্ষেপে, অ্যারিয়ানা গ্র্যান্ডে ও জোনাথন বেইলি ‘সানডে ইন দ্য পার্ক উইথ জর্জ’ মিউজিক্যালে একসাথে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। লন্ডনের বার্বিকান থিয়েটার থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না পাওয়া সত্ত্বেও, দুজনের ইনস্টাগ্রাম পোস্ট এই প্রকল্পের দিকে ইঙ্গিত করে। ভবিষ্যতে এই মিউজিক্যালের রিলঞ্চে দুজনের পারফরম্যান্স কী রকম হবে, তা সময়ই বলবে।



