কানাডার পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ জেসি মার্সে জানুয়ারি মাসে নোভা স্কোশিয়ার হ্যালিফ্যাক্সে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করেন। দেশীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে এই শিবিরের লক্ষ্য ছিল দীর্ঘমেয়াদী বিকাশের ভিত্তি স্থাপন করা, যা কোচের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও টিকে থাকবে। শিবিরে দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে আসা খেলোয়াড়দের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দলের সদস্যদের মিলিত করা হয়, যা দলের সামগ্রিক গুণগত মান বাড়াতে সহায়তা করে।
হ্যালিফ্যাক্সে জাতীয় দল প্রথমবারের মতো উপস্থিত হয়, যদিও মার্সের এই শহরে পূর্বে কোনো সফর ছিল না। তার আগের সফরে তিনি স্থানীয় হোটেল ও কনভেনশন সেন্টারে একটি ক্রস‑কান্ট্রি কোচিং ক্লিনিক পরিচালনা করেন, যেখানে কোপা আমেরিকা ২০২৪-এ দলের পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণ শেয়ার করা হয়। এই ক্লিনিকের মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন স্তরের ফুটবল সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন এবং জাতীয় দলকে সত্যিকারের ‘জাতীয়’ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
শিবিরের সময় মার্সে দেশের শীর্ষ স্তরের ক্লাব, কানাডা পিএল-এর আটটি দলের মধ্যে একটি, ওয়ান্ডারার্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। ওয়ান্ডারার্সের তরুণ স্ট্রাইকার টিয়াগো কোইম্ব্রা শিবিরে উপস্থিত ছিলেন, যাকে সাম্প্রতিক মৌসুমে কানাডা পিএল-র সেরা কানাডিয়ান U‑21 খেলোয়াড়ের পুরস্কার প্রদান করা হয়েছিল। তার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে কোইম্ব্রা স্থানীয় তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে মার্সের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করেন।
প্রায় সাত মাস পর, কোইম্ব্রা আবার মার্সের জানুয়ারি শিবিরে আমন্ত্রিত হন, এবার ক্যালিফোর্নিয়ার প্রশিক্ষণ শিবিরে। কোচের ধারাবাহিক নজরদারির ফলে তার উন্নয়ন ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং শিবিরে তার উপস্থিতি মার্সের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গির একটি অংশ হিসেবে দেখা হয়। কোইম্ব্রা বললেন, “আমি শুধু আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে চাই, জেসির ভালো দিকটি দেখাতে এবং নিজের ক্ষমতা প্রমাণ করতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন, “জাতীয় দলের জন্যই নয়, নিজের জন্যও আমি সর্বোচ্চ দিতে প্রস্তুত।”
মার্সের পরিকল্পনা কেবল একক শিবিরে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি কুইবেক সিটি, সাসকাটুন এবং ক্যালগারিতে একই রকম কোচিং সেশন পরিচালনা করেছেন। এই সফরগুলোতে তিনি স্থানীয় ক্লাব ও যুব একাডেমিগুলোর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া বাড়িয়ে দেশের ফুটবল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখেন। শিবিরে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ডেটা সংগ্রহের মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের গঠনকে আরও বৈচিত্র্যময় ও প্রতিযোগিতামূলক করতে চান।
হ্যালিফ্যাক্স শিবিরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেশীয় প্রতিভার মেলবন্ধন। মার্সের দল বিভিন্ন মহাদেশ থেকে আসা খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রশিক্ষণ সেশন ভাগ করে নেয়, যা স্থানীয় খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে পরিচিত করে। এই মিশ্রণটি কানাডার ফুটবলকে গ্লোবাল স্তরে প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
শিবিরের শেষে মার্সের দল একটি সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন সেশন পরিচালনা করে, যেখানে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের শক্তি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়। এই তথ্য ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হবে এবং দেশের বিভিন্ন স্তরে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামকে সমন্বিত করবে। কোইম্ব্রার মতো তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যা তাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রবেশের দরজা খুলে দেয়।
কানাডা পিএল এবং জাতীয় দলের মধ্যে এই সমন্বয়মূলক কাজের ফলে দেশের ফুটবল পরিবেশে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। মার্সের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, শিবিরে সনাক্ত হওয়া প্রতিভাগুলোকে ধারাবাহিকভাবে উন্নত করে জাতীয় দলের মূল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এভাবে কানাডা ফুটবল ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারে।
পরবর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্সের দল শিবিরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে গ্রীষ্মের গোল্ড কাপের প্রস্তুতি শুরু করবে এবং একই সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার শিবিরে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ সেশন চালাবে। এই ধারাবাহিকতা দেশের ফুটবল উন্নয়নের জন্য একটি স্থিতিশীল ভিত্তি গড়ে তুলবে।



