অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য কর্মী সংকটের সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে রাজস্ব খাতে স্থায়ীভাবে ৩,৫০০টি নতুন ডাক্তার পদ যোগ করা হবে। এর মধ্যে ৩,২০০টি সহকারী সার্জন ও সমমানের পদ এবং ৩০০টি সহকারী ডেন্টাল সার্জনের পদ অন্তর্ভুক্ত।
এই পদ সৃষ্টির অনুমোদন বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে নেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে এই সভা পরিচালিত হয় এবং নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাবে একমত হয়।
প্রস্তাবটি স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত করা হয়। লক্ষ্য হল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিশেষায়িত কেন্দ্রগুলোতে ডাক্তার ঘাটতি দূর করা।
চাকরি পূরণের জন্য ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে ইতিমধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তারদের দ্রুত পদে বসানো নিশ্চিত করতে এই পদ সৃষ্টির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগও এই পরিকল্পনায় সম্মতি জানিয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। উভয় বিভাগই স্বাস্থ্য সেবার গুণগত মান উন্নয়নে এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে।
অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ ইতিমধ্যে এই ৩,৫০০টি পদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করেছে। বেতন কাঠামোটি সরকারি স্বাস্থ্য কর্মীদের বর্তমান পারিশ্রমিকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে, যাতে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
সৃষ্টিকৃত পদগুলো স্থায়ী হওয়ায় ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য কর্মী ঘাটতি পুনরায় দেখা না দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকায় চিকিৎসা সেবার প্রাপ্যতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য যে, এই পদ সৃষ্টির মাধ্যমে শুধুমাত্র ডাক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে না, বরং স্বাস্থ্য সেবার গুণগত মানও উন্নত হবে। রোগীর অপেক্ষার সময় কমবে এবং জরুরি সেবার গতি বাড়বে।
সামগ্রিকভাবে, সরকার স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘস্থায়ী মানবসম্পদ সমস্যার সমাধানে একটি কাঠামোগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপের বাস্তবায়ন দ্রুত হলে দেশের স্বাস্থ্য সেবার অবকাঠামোতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
নতুন পদগুলোর জন্য নির্ধারিত বেতন স্কেল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া উভয়ই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। ফলে, যোগ্য প্রার্থীরা ন্যায্য সুযোগ পাবে এবং স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের পদ সৃষ্টিই স্বাস্থ্য কর্মী ঘাটতি কমাতে কার্যকর হবে।
আপনার মতামত কী? স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে আরও কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?



