পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক মাসের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা শর্ত আরোপের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি রোধে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শর্তটি এক মাসের জন্য প্রযোজ্য হবে এবং তা বিদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রাপ্তির পর দেশে পৌঁছানোর সময়ই কার্যকর হবে। তৌহিদ হোসেনের মতে, এই নির্দেশনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত হয়েছে এবং নির্বাচনের সময় অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কমাতে লক্ষ্যবস্তু।
উল্লেখ্য, ভিসা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে না; যারা বৈধ উদ্দেশ্য নিয়ে আসতে চান, তাদেরকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভিসা প্রদান করা হবে। তবে হঠাৎ করে কোনো ব্যক্তি অপ্রয়োজনীয়ভাবে দেশে প্রবেশ না করতে পারে, এ জন্যই এই শর্ত প্রয়োগ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এছাড়াও চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের সামরিক সক্ষমতা উন্নত করতে বিমানবাহিনীর পুরনো জেটগুলোকে আধুনিকায়ন করা জরুরি, কারণ বর্তমান বেশিরভাগ বিমানই ব্যবহারিক অবস্থায় নেই।
বিমানবাহিনীর অবস্থা বিবেচনা করে, নতুন সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তৌহিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেন, কোনো একক দেশের সঙ্গে অতিরিক্ত নির্ভরতা গড়ে না তুলে, সব পক্ষের সঙ্গে সমতা বজায় রেখে ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
আর্কান আর্মি সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মিয়ানমার সরকারকে এই গোষ্ঠীকে বৈধ হিসেবে স্বীকার করা হয় না এবং বাংলাদেশও তাদের সঙ্গে কোনো সরকারি যোগাযোগ রাখে না। তাই, কোনো অ-প্রতিষ্ঠিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে রাষ্ট্রিক সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
তবে, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়নি; উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোতে সংলাপ চালু রয়েছে। তৌহিদ হোসেনের মতে, এই সংলাপের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক বিষয়গুলোতে সমন্বয় সাধন করা হয়।
মিয়ানমার সীমান্তের অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, এই সমস্যাটি একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয় এবং সমাধানের জন্য ধারাবাহিক প্রস্তুতি ও সময়ের প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান নিয়ে তিনি পূর্বে উল্লেখ করা সময়সীমা—দুই-চার মাস বা এক-দুই বছর—কে অযৌক্তিক বলে খণ্ডন করেন। তৌহিদ হোসেনের মতে, এই ধরনের মানবিক সংকটের সমাধান দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সম্ভব হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, সরকার বর্তমানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও পুনরায় সংহতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। তৌহিদ হোসেনের মন্তব্য অনুসারে, এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং সামাজিক পুনর্গঠনমূলক পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা শেষ করে বলেন, নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা, কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং মানবিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকার একসঙ্গে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন-অ্যারাইভাল ভিসা শর্ত এবং সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনা নির্বাচনী পরিবেশকে স্থিতিশীল করবে, পাশাপাশি মিয়ানমার সীমান্তের জটিলতা সমাধানে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।



