প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরে হাউস অব কমন্সে প্রধানমন্ত্রীর স্টার্মার আজ এক্সের এআই টুল গ্রোক দ্বারা তৈরি যৌন ডিপফেক্সের মোকাবেলায় কোম্পানির পদক্ষেপের রিপোর্টে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন এক্স যুক্তরাজ্যের আইন মেনে চলার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে।
স্টার্মার পরে স্পষ্ট করেন যে তিনি এক্সের কাছ থেকে কোনো নতুন তথ্য পাননি; তার মন্তব্য মূলত মিডিয়ার প্রতিবেদনকে প্রতিক্রিয়া হিসেবে ছিল। তাই তিনি কোনো সরাসরি যোগাযোগের ভিত্তিতে মন্তব্য করেননি।
গ্রোকের মাধ্যমে তৈরি যৌন ডিপফেক্সের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর জনমত থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এই বিষয়টি নিয়ে অফকম সোমবার তদন্ত শুরু করে এবং সরকার অসম্মত ডিপফেক্সের সৃষ্টিকে অপরাধিকরণকারী আইন প্রয়োগের ঘোষণা দেয়।
সরকারের এই পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী গ্রোক এখন আর নারী ও কিশোরী মেয়ের যৌন চিত্র তৈরির অনুরোধে সাড়া দিচ্ছে না। এ পরিবর্তনটি ডিপফেক্সের অপব্যবহার রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এক্সের এই বিষয়ে কোনো মন্তব্যের জন্য বিবিসি থেকে অনুরোধ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে স্টার্মারের মন্তব্যের পরেও এক্সের পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশনা নেই।
এক্সের সেফটি অ্যাকাউন্টে পূর্বে প্রকাশিত একটি নোটে বলা হয়েছে, গ্রোককে অবৈধ বিষয়বস্তু তৈরি করতে ব্যবহার করা হলে তা অবৈধ কন্টেন্ট আপলোডের সমান শাস্তির আওতায় পড়বে। এই নীতি কোম্পানির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য প্রকাশ করে।
লেবার পার্টির এমপি এমিলি ডার্লিংটন হাউসের প্রশ্নোত্তরে গ্রোকের ডিপফেক্সকে “অসহনীয়” বলে নিন্দা করেন এবং এক্সের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিলে অফকমকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার কথা বলেন। স্টার্মারও একই সময়ে গ্রোকের কাজকে নিন্দা করে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “যদি এক্স যুক্তরাজ্যের আইন মেনে চলার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে, তবে তা স্বাগত, তবে আমরা হাল ছাড়ব না এবং তারা অবশ্যই কাজ করবে।” তিনি আরও বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং বিদ্যমান আইনকে শক্তিশালী করবে।
স্টার্মার আরও জানান, অফকমের স্বাধীন তদন্ত চলমান থাকবে এবং প্রয়োজনে আইন প্রণয়নের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এই ঘোষণার মাধ্যমে সরকার ডিপফেক্সের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণের সংকল্প প্রকাশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর অফিসের একজন মুখপাত্র পরে স্পষ্ট করেন, স্টার্মার এবং এক্সের মধ্যে কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। তিনি বলেন, হাউসে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ছিল এক্সের কিছু পদক্ষেপের ইঙ্গিতের ভিত্তিতে।
মুখপাত্রের মতে, এক্সের পদক্ষেপের সূচনায় যদি সত্যিই আইন মেনে চলার প্রচেষ্টা থাকে, তবে তা স্বাগত, তবে এটিকে “যোগ্য স্বাগত” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মন্তব্যে সরকার এক্সের উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিলেও সম্পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেনি।
অফকমের তদন্তের ফলাফল এবং সরকারের আইন সংশোধনের পরিকল্পনা পরবর্তী সপ্তাহে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ডিপফেক্সের সৃষ্টিকর্তা ও ব্যবহারকারীদের জন্য স্পষ্ট দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, প্রধানমন্ত্রীর স্বাগত মন্তব্য এক্সের গ্রোক ডিপফেক্স মোকাবেলায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি সরকারী মনোভাবকে প্রকাশ করে, তবে আইনশক্তি বাড়ানো এবং অফকমের তদন্তের মাধ্যমে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা জোর দেয়।



