19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানের আইআরজিসি এয়ারোস্পেস ফোর্সের মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণের হুমকি

ইরানের আইআরজিসি এয়ারোস্পেস ফোর্সের মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণের হুমকি

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এয়ারোস্পেস ফোর্সের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ মোসাভি বুধবার একটি বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরান এখন মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে আক্রমণ চালানোর প্রস্তুতিতে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরান তার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে এবং সেই সময়ে প্রকাশিত দুর্বলতাগুলো ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে।

মজিদ মোসাভি আরও জানান, বর্তমান সময়ে ইরানি বাহিনী শত্রুর যেকোনো আক্রমণকে গুঁড়িয়ে দিতে সম্পূর্ণ সক্ষম এবং যদি কোনো বিদেশি শক্তি আবার হস্তক্ষেপ করে তবে পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত সব স্থাপনা কঠোরভাবে লক্ষ্যবস্তু হবে। তিনি অতীতের একটি উদাহরণ উল্লেখ করেন, যেখানে ইরান কাতারের আল‑উদেদ বিমান ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে শক্তি প্রদর্শন করেছিল।

এই মন্তব্যের পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উস্কানিমূলক বক্তব্য রয়েছে। ট্রাম্প পূর্বে ইরানি প্রতিবাদকারীদের সরকারি ভবনে হামলার আহ্বান জানিয়ে, তাদের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য থাকবে বলে দাবি করে ইরানের অভ্যন্তরে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তার এই মন্তব্যের পর ইরান তেহরান সরকার পুনরায় সতর্কতা জানিয়ে, কোনো নতুন আগ্রাসন ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত সব লক্ষ্যবস্তুতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ আবদুররহিম মোসাভি বর্তমান পরিস্থিতিকে গত বছরের যুদ্ধের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, সরাসরি যুদ্ধের ব্যর্থতার পর শত্রু দেশগুলো এখন প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইরানে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি ইরানে সংঘটিত বিশাল ধ্বংসযজ্ঞের উল্লেখ করে তিনি জানান, বিদেশি সমর্থিত এই গোষ্ঠীগুলো সাধারণ নাগরিকদের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়ে প্রাণহানি ঘটাচ্ছে এবং সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্টের জন্য চরম সহিংসতার পথে অগ্রসর হয়েছে।

ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প বর্তমানে সর্বোচ্চ তৎপরতায় কাজ করছে, যাতে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া যায়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে ইরানের এই নতুন হুমকি অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বা কূটনৈতিক পদক্ষেপে পরিবর্তন আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যদি ইরান সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে আক্রমণ চালায়, তবে তা কেবলমাত্র ইরান‑যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করবে। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পুনর্বিন্যাস, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ইরানের আইআরজিসি এয়ারোস্পেস ফোর্সের নতুন ক্ষমতা ও আক্রমণাত্মক রেটোরিক দেশের সামরিক নীতি ও কূটনৈতিক কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক সংলাপের গতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments