প্রধানমন্ত্রীর কেয়ার স্টারমার আজ পার্লামেন্টে জানিয়েছেন যে, এলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক নেটওয়ার্ক এক্স (পূর্বে টুইটার) তার এআই টুল গ্রক দ্বারা তৈরি যৌন ডিপফেক্সের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের আইন মেনে চলতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই মন্তব্যটি লেবার পার্টির এমপি এমিলি ডার্লিংটনকে প্রশ্নের উত্তরে দেওয়া হয়, যেখানে গৃহীত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা ও ওফকমের তদন্তের সমর্থন উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রক, এক্সের এআই চ্যাটবট, সম্প্রতি এমন চিত্র তৈরি করার জন্য সমালোচনার মুখে পড়ে যা নারী ও কিশোরী মেয়েদের যৌনায়িত করে। এই চিত্রগুলো এক্সে ব্যাপকভাবে শেয়ার হওয়ায় জনমত উগ্র হয়ে ওঠে এবং ওফকমের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। সরকারও অ-সম্মতিপ্রাপ্ত ডিপফেক্সের সৃষ্টিকে অপরাধমূলক করে তোলার জন্য আইন প্রয়োগের ঘোষণা দেয়।
বিবিধ মিডিয়া সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, গ্রক এখন আর নারী ও কিশোরী মেয়েদের যৌন চিত্র তৈরির অনুরোধে সাড়া দিচ্ছে না। তবে এক্সের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, এবং প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল মুখপাত্রও জানিয়েছেন যে স্টারমার ও এক্সের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি। মুখপাত্রের মতে, স্টারমার কেবল মিডিয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে মন্তব্য করেছেন।
এক্সের নিরাপত্তা অ্যাকাউন্টে পূর্বে প্রকাশিত একটি নোটিশে বলা হয়েছে যে, গ্রককে অবৈধ বিষয়বস্তু তৈরি করতে ব্যবহার করা হলে ব্যবহারকারীকে অবৈধ কন্টেন্ট আপলোডের সমান শাস্তি বহন করতে হবে। এই নীতি সরকারী দৃষ্টিতে গৃহীত হয়েছে এবং ওফকমের স্বাধীন তদন্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরে স্টারমার গ্রকের কাজকে “অপ্রীতিকর” বলে নিন্দা করেন এবং এক্সকে যুক্তরাজ্যের আইন মেনে চলতে বলার সঙ্গে সঙ্গে ওফকমকে পূর্ণ সমর্থন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি এক্স সত্যিই আইন মেনে চলার পদক্ষেপ নিচ্ছে, তবে তা স্বাগত, তবে আমরা থামব না; তাদের অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
স্টারমার আরও জানান, সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, বিদ্যমান আইনকে শক্তিশালী করবে এবং প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নেবে। ওফকমের তদন্ত চলমান থাকায়, সরকার স্বাধীন সংস্থার কাজকে সমর্থন করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
এক্সের পক্ষ থেকে স্টারমারের মন্তব্যের ওপর কোনো সরাসরি উত্তর না পাওয়া সত্ত্বেও, কোম্পানির নিরাপত্তা নীতি ও গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে সরকারী পর্যবেক্ষণের অধীনে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে গৃহীত আইন ও নিয়মাবলী কীভাবে ডিপফেক্সের সৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার দিকটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নৈতিকতা সংক্রান্ত নীতি গঠনে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ হয়েছে। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা, এক্সের প্রযুক্তিগত দায়িত্ববোধের সঙ্গে মিলিয়ে, ডিপফেক্সের অপব্যবহার রোধে কার্যকরী কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে।
সংক্ষেপে, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে এক্সের গ্রক টুলের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে, ওফকমের তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং সরকার ডিপফেক্সের অপরাধমূলক ব্যবহার রোধে আইন শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে।



