22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধইরানের প্রতিবাদে গ্রেফতার ২৬-বছরীর এর্ফান সোলতানি মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন

ইরানের প্রতিবাদে গ্রেফতার ২৬-বছরীর এর্ফান সোলতানি মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন

ইরানের তীব্র প্রতিবাদে জড়িত বলে অভিযোগে গ্রেফতার ২৬ বছর বয়সী এর্ফান সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তার মৃত্যুদণ্ডের কার্যকরী তারিখ শীঘ্রই নির্ধারিত হয়েছে। সোলতানি ফার্দিস শহরে, তেহরানের পশ্চিমে অবস্থিত, গত বৃহস্পতিবার তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন। গ্রেফতারের দুই দিন পরই আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে এবং বুধবারের জন্য ফাঁসির তারিখ নির্ধারণ করে।

ফার্দিসে তার একটি পোশাকের দোকান পরিচালনা করতেন সোলতানি, এবং গ্রেফতার সময় তাকে তার ব্যক্তিগত বাসায় ধরা পড়ে। গ্রেফতারকারী কর্তৃপক্ষের মতে, তিনি প্রতিবাদে অংশগ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অপরাধের জন্য ধরা পড়েছেন, তবে নির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণের বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণার পরপরই সোলতানির পরিবারকে জানানো হয় যে তার ফাঁসি বুধবার হবে, তবে ফাঁসির সময়, স্থান বা অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। পরিবারকে একমাত্র জানানো হয় যে তিনি গ্রেফতার হয়েছেন এবং এখন মৃত্যুদণ্ডের মুখে আছেন।

নরওয়েতে অবস্থিত কুর্দি মানবাধিকার সংস্থা হেংও, যা ইরানের মানবাধিকার লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণ করে, সোলতানির মামলার তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সোলতানির মতো দ্রুত মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া কেসের সংখ্যা বাড়ছে এবং এটি পূর্বের প্রতিবাদগুলোর তুলনায় অধিক কঠোরতা নির্দেশ করে।

ইরানের বিচার বিভাগ এখনও সোলতানির মামলায় কোনো মন্তব্য করেনি এবং ফাঁসির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। সরকার কর্তৃক আরোপিত ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ফলে এই ধরনের মামলার তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা জনসাধারণের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাধা সৃষ্টি করছে।

সোলতানির বোন, যিনি একজন আইনজীবী, মামলাটি চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করেন। তবে কর্তৃপক্ষ তাকে জানান যে, তার পক্ষে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয় এবং মামলায় কোনো নতুন দিক অনুসন্ধান করা যাবে না। এই তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায় যে, পরিবারকে আইনি সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোলতানির পরিবারকে জানানো হয়েছিল যে, মৃত্যুদণ্ডের আগে তিনি পরিবারের সঙ্গে শেষবারের মতো সাক্ষাৎ করতে পারবেন। তবে বাস্তবে, সোলতানি তার পরিবার থেকে কোনো যোগাযোগ পায়নি এবং নির্ধারিত সাক্ষাতের সুযোগও প্রদান করা হয়নি। ইরানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের সাধারণত শেষ সাক্ষাতের অধিকার থাকে, তবে এই ক্ষেত্রে তা মেনে চলা হয়নি বলে মনে হয়।

সোলতানির মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো আপিল বা পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ইরানের আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্তের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল করা বাধ্যতামূলক, তবে পরিবারের কাছ থেকে এই বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে কী ধরণের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিচারিক সংস্থাগুলি কীভাবে প্রতিবাদে জড়িত ব্যক্তিদের মোকাবিলা করবে তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। হেংও সংস্থা উল্লেখ করেছে যে, সোলতানির মতো দ্রুত মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া কেসের সংখ্যা বাড়ছে এবং এটি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি নির্দেশ করে।

সোলতানির পরিবার এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলি এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ও চাপের অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তার মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায় এবং নির্ধারিত ফাঁসির আগে কোনো রায় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments