রোবটের জন্য ভিত্তিমূলক মডেল তৈরি করা স্টার্ট‑আপ Skild AI সম্প্রতি $১.৪ বিলিয়ন মূল্যের সিরিজ‑সি তহবিল সংগ্রহ সম্পন্ন করেছে, যার ফলে কোম্পানির মোট মূল্যায়ন $১৪ বিলিয়নের ঊর্ধ্বে পৌঁছেছে। এই তহবিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি রোবট সফটওয়্যারের গবেষণা ও উন্নয়নে আরও দ্রুত অগ্রসর হতে পারবে।
তহবিল সংগ্রহের নেতৃত্ব SoftBank দিয়েছে, আর Nvidia, Macquarie Group, 1789 Capital এবং আরও কয়েকটি বিনিয়োগকারীও এতে অংশগ্রহণ করেছে। এই বিনিয়োগকারীরা রোবটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রের গভীর জ্ঞান ও সম্পদ নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত গ্রীষ্মে Skild AI-কে $৪.৫ বিলিয়ন মূল্যায়ন করা হয়েছিল, যখন একটি তহবিল রাউন্ড সম্পন্ন হয়েছিল যার পরিমাণ আনুমানিক $৫০০ মিলিয়ন বলে গুজব ছিল। সেই রাউন্ডের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ কোম্পানি প্রকাশ না করলেও, মূল্যায়নের বৃদ্ধি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
প্রতিষ্ঠানের সিইও Deepak Pathak উল্লেখ করেছেন যে, এখন পর্যন্ত Skild AI মোট $২ বিলিয়নের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে। এই পরিমাণের মধ্যে পূর্বের রাউন্ড এবং সাম্প্রতিক সিরিজ‑সি উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।
Skild AI ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মূল লক্ষ্য হল সাধারণ উদ্দেশ্যের রোবটিক সফটওয়্যার ও ভিত্তিমূলক মডেল তৈরি করা। এই মডেলগুলো বিভিন্ন রোবট প্ল্যাটফর্মে সহজে সংযুক্ত করা যায় এবং অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন কমে যায়। কোম্পানি আশা করে যে, রোবটগুলো মানব কর্মীর কাজের পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করে নিজে শিখতে পারবে।
প্রযুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হল, মডেলগুলোকে নির্দিষ্ট কাজের জন্য পুনরায় প্রশিক্ষণ না করেও নতুন কাজের সাথে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। মানবের ক্রিয়াকলাপ থেকে শেখার ক্ষমতা রোবটকে দ্রুত বিভিন্ন পরিবেশে কাজ করতে সক্ষম করবে। ফলে রোবটের ব্যবহারিকতা ও নমনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে “শিখতে শিখতে কাজ করা” ধরনের রোবটিক সফটওয়্যারের চাহিদা বাড়ছে, বিশেষ করে হিউম্যানয়েড রোবটের প্রতি আগ্রহের সঙ্গে। এই প্রবণতা রোবটকে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব করে তুলতে সহায়তা করছে।
রোবটের ব্যাপক গ্রহণের প্রধান বাধা হল প্রতিটি নতুন কাজের জন্য বিশাল পরিমাণে প্রশিক্ষণ ডেটা সংগ্রহের প্রয়োজন। Skild AI-র মডেলগুলো এই বাধা কমিয়ে রোবটকে কাজের সময়ই শিখতে এবং মানিয়ে নিতে সক্ষম করে। ফলে শিল্প ও গৃহস্থালী উভয় ক্ষেত্রেই রোবটের ব্যবহার সহজ হবে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে অন্যান্য স্টার্ট‑আপও সমান লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে; উদাহরণস্বরূপ Field AI অনুরূপ অভিযোজ্য রোবটিক সফটওয়্যার তৈরি করছে। এছাড়া 1X কোম্পানি, যেটি হিউম্যানয়েড Neo তৈরি করে, সম্প্রতি একটি বিশ্ব মডেল প্রকাশ করেছে যা একই উদ্দেশ্য সাধন করে।
যদি এই প্রযুক্তিগুলো সফলভাবে বাজারে পৌঁছে যায়, তবে রোবটের ব্যবহার শিল্প উৎপাদন, লজিস্টিক্স, স্বাস্থ্যসেবা এবং গৃহস্থালী কাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। রোবটের স্বয়ংক্রিয় শিক্ষণ ক্ষমতা শ্রমিকের কাজের চাপ কমাবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াবে। শেষ পর্যন্ত, রোবটিক্সের এই নতুন ধাপ আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও কাজের পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে।



