ক্রিকেটারদের সমন্বিত সংগঠন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের নেতৃত্বে, বিসিবি পরিচালক এম. নাজমুল ইসলামকে আগামীকাল পর্যন্ত পদত্যাগ না করলে দেশের সকল ক্রিকেট কার্যক্রম বন্ধ করার হুমকি জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি রাতের জুম সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত হয়, যেখানে নাজমুলের কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় খেলোয়াড়দের সংগঠন এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
কোয়াবের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, নাজমুলের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মানজনক এবং পুরো ক্রিকেট পরিবেশকে আঘাত করেছে। তিনি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তা খেলোয়াড়দের মনোবল হ্রাসের পাশাপাশি ক্রিকেটের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে তারা জোর দিয়ে বলেন।
বিসিবি ত্রিশুয়ান্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলাকালীন, বাংলাদেশ দল ভারতের ভ্রমণ নিয়ে মতবিরোধের মুখে রয়েছে। বিশ্বকাপ না খেললে খেলোয়াড়দের ক্ষতিপূরণ হবে কি না, এ বিষয়ে বিসিবি অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের মন্তব্যে দেখা যায়, যদি দল কোনো কাজ না করতে পারে, তবে ব্যয়িত কোটি কোটি টাকার ফেরত চাওয়া যুক্তিযুক্ত হবে না।
এই আলোচনার মাঝেই, জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবাল ফেসবুকে নাজমুলের মন্তব্যকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে সমালোচনা করেন। তামিমের এই পোস্টের পর নাজমুলের মন্তব্যগুলোকে কোয়াব ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে চিহ্নিত করেছে। মিঠুন বলেন, একাধিক খেলোয়াড়ের ওপর একসাথে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা কখনোই স্বীকারযোগ্য নয় এবং এমন মন্তব্যের জন্য পরিচালকের ভাষা আরও সতর্ক হওয়া দরকার।
একই সময়ে, নাজমুল একটি উদাহরণ দিয়ে বোর্ডের আর্থিক স্বায়ত্তশাসন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যদি পুরো বোর্ডই না থাকে, তবে ক্রিকেটের অস্তিত্ব কীভাবে বজায় থাকবে? এই বক্তব্যের পর কোয়াবের সভাপতি পুনরায় জোর দেন, নাজমুলের মন্তব্যগুলো কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং তিনি যদি আগামীকাল ম্যাচের আগে পদত্যাগ না করেন, তবে সব ধরনের ক্রিকেট বয়কট করা হবে।
বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে নাজমুলের এই উদাহরণটি উল্লেখ করে বোর্ডের আর্থিক নীতি সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, যদি বোর্ড না থাকে, তবে ক্রিকেটাররা কি থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তরে কোয়াবের প্রতিনিধি আবারও নাজমুলের মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন এবং তার পদত্যাগ না হলে বয়কটের ইঙ্গিত পুনরায় দেন।
আগামীকাল দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ বি.পি.এল. ম্যাচ, যেখানে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম রয়্যালস। সন্ধ্যায় আরেকটি ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রতিপক্ষ হবে সিলেট টাইটানস। কোয়াবের বয়কটের হুমকি এই দুই ম্যাচের আগে প্রকাশিত হয়েছে।
বিসিবি এই পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, যে পরিচালকের ব্যক্তিগত মন্তব্যগুলো বিসিবির অফিসিয়াল নীতি নয় এবং সেগুলোকে সংগঠনের দৃষ্টিকোণ থেকে আলাদা করা হয়েছে। তবে, খেলোয়াড়দের সংগঠন এই ব্যাখ্যাকে যথেষ্ট না বলে দাবি করে, নাজমুলের পদত্যাগ না হলে পুরো ক্রিকেট ক্যালেন্ডার বন্ধ হবে।
বিসিবি পরিচালকের পদত্যাগের ultimatum দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। যদি নাজমুল এই শেষ সুযোগে সাড়া না দেন, তবে কোয়াবের বয়কটের বাস্তবায়ন মানে হবে পুরো দেশব্যাপী ক্রিকেটের বন্ধ। এই পরিস্থিতি খেলোয়াড়, বোর্ড এবং ভক্তদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি করেছে।
কোয়াবের প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, নাজমুলের মন্তব্যগুলো শুধুমাত্র ব্যক্তিগত মতামত নয়, বরং পুরো ক্রিকেট সম্প্রদায়ের প্রতি অবহেলা প্রকাশ করে। তিনি বলেন, পরিচালকের ভাষা যতটা সম্ভব সংযত এবং সমন্বিত হওয়া উচিত, যাতে কোনো খেলোয়াড়ের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
বিসিবি এখন নাজমুলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তবে বয়কটের হুমকি প্রত্যাহার করা হবে এবং নির্ধারিত ম্যাচগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। অন্যথায়, কোয়াবের ঘোষিত বয়কটের ফলে দেশের সব স্তরের ক্রিকেট কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।
এই ঘটনার পর, ক্রিকেট প্রেমিক এবং বিশ্লেষকরা নাজমুলের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন। তারা প্রত্যাশা করছেন, পরিচালকের সিদ্ধান্ত দেশের ক্রিকেটের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখবে নাকি বয়কটের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের দাবি পূরণ হবে। সময়ই বলবে, কোন পথই শেষ হবে।



