মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার পর, সরকার ভ্রমণ বা ট্যুরিস্ট ভিসা ব্যবহার করে অবৈধভাবে কাজ করা বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর শূন্য সহনশীলতা নীতি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত জানায়। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল শ্রমবাজারের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং ভিসা শর্ত লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট আইনি জটিলতা দূর করা।
সপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে, যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাজিল সরকারী মুখপাত্রের ভূমিকায় উপস্থিত হয়ে নীতির বিশদ ব্যাখ্যা দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ও শিল্প সমিতি থেকে ভ্রমণ ভিসা নিয়ে কাজ করা বিদেশিদের সংখ্যা বাড়ার অভিযোগ উঠে এসেছে, যা শ্রমবাজারের ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থা ও শিল্প সমিতি দীর্ঘদিন ধরে পর্যটক ভিসা ব্যবহার করে অননুমোদিত কর্মসংস্থান চালিয়ে যাওয়া বিদেশিদের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তারা দাবি করে যে, এ ধরনের অনিয়ম স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে দেয় এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামোকে দুর্বল করে। এই অভিযোগগুলো মন্ত্রিসভার আলোচনায় প্রধান বিষয় হিসেবে উঠে আসে।
সরকারের মূল্যায়ন অনুসারে, পর্যটক ভিসা নিয়ে কাজ করা বিদেশি কর্মীরা দেশের শ্রমবাজারে অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে এবং কর্মসংস্থান নীতি অনুসারে বৈধ কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। ফলে, শ্রমিকদের বেতন, কাজের শর্ত এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলে।
এই প্রেক্ষাপটে, সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের ঘোষণা দেয়। নীতি অনুসারে, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করে কাজ করা যেকোনো বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং কোনো বিলম্ব ছাড়াই শাস্তি আরোপ করা হবে। নীতির লক্ষ্য হল ভিসা ব্যবহারের শর্তাবলী কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং অননুমোদিত কর্মসংস্থান বন্ধ করা।
দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নীতির বাস্তবায়ন তদারকি করবে এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেবে। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ভিসা শর্ত লঙ্ঘনের সন্দেহে অভিযুক্তদের ওপর ত্বরিত তদন্ত চালু হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি, বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ ও ইমিগ্রেশন অফিস, এখন থেকে ভিসা শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা পর্যটক ভিসা ব্যবহারকারী বিদেশিদের কর্মস্থল পরিদর্শন, কাজের রেকর্ড যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে।
যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাজিল স্পষ্ট করে বলেন, এই সিদ্ধান্তটি ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া হয়েছে এবং দেশের শ্রমবাজারের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য অপরিহার্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শূন্য সহনশীলতা নীতি কার্যকর করা হলে বিদেশি কর্মীদের অননুমোদিত কাজের সুযোগ কমে যাবে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান সুরক্ষিত হবে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই নীতি মালয়েশিয়ার অভিবাসন ও শ্রম নীতি সংশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতে, সরকার ভিসা নিয়মাবলী আরও কঠোর করে আন্তর্জাতিক শ্রমিক নিয়োগের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে পারে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, মালয়েশিয়া সরকার ভ্রমণ ভিসা ব্যবহার করে অবৈধ কাজ করা বিদেশিদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে শ্রমবাজারের স্বচ্ছতা রক্ষা, আইনি কাঠামো বজায় রাখা এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান সুরক্ষিত করার লক্ষ্য নিয়েছে। এই পদক্ষেপের বাস্তবায়ন ও ফলাফল দেশের অভিবাসন নীতি ও শ্রম বাজারের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



