জন ফোর্টে, ৫০ বছর বয়সী সঙ্গীতশিল্পী, মাসাচুসেটসের চিলমার্কে তার বাড়িতে সোমবার বিকেলে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছেন। স্থানীয় পুলিশ চিফ শোন স্লাভিনের মতে, দেহে কোনো অপরাধের চিহ্ন বা স্পষ্ট মৃত্যুর কারণ পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য রাজ্য মেডিকেল এক্সামিনারের অফিস তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ফোর্টে নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশব থেকেই সঙ্গীতের প্রতি তীব্র আগ্রহ দেখিয়েছেন। তার প্রতিভা শীঘ্রই প্রকাশ পায় এবং তিনি ২০-এর দশকের শুরুর দিকে ফুগিসের গ্র্যামি জয়ী অ্যালবাম “দ্য স্কোর”-এ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। একই সময়ে, ওয়াইক্লেফ জিনের গ্র্যামি-নামপ্রাপ্ত অ্যালবাম “দ্য কার্নিভাল”-এও তিনি সৃষ্টিশীল কাজের স্বাক্ষর রেখে গেছেন।
একজন বহু-যন্ত্রবাদী ও র্যাপার হিসেবে ফোর্টের সঙ্গীতশৈলী জ্যাজ, হিপ-হপ এবং রক উপাদানকে মিশ্রিত করে অনন্য স্বর তৈরি করত। তার স্বতন্ত্র সাউন্ডকে আরও সমৃদ্ধ করতে তিনি “পলি সাই” এবং “আই জন” শিরোনামের দুটি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন, যেখানে ক্যারলি সাইমনসহ বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে সহযোগিতা করা হয়েছে। ক্যারলি সাইমননের পুত্র বেন টেইলর ফোর্টের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং দুজনের বন্ধুত্ব সঙ্গীতের মাধ্যমে গভীর হয়েছিল।
২০০০ সালে, ফোর্টে নিউয়ার্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গৃহীত হন তরল কোকেইন ও মাদক পাচারের অভিযোগে। তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, তবে তিনি সাত বছর পর প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশের আদেশে দণ্ডমুক্তি পান। ক্যারলি সাইমন এবং অন্যান্য জনসাধারণের ব্যক্তিত্ব ফোর্টের মুক্তির পক্ষে সক্রিয়ভাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
ফোর্টের মৃত্যু সঙ্গীত জগতে একটি বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার স্ত্রী, ফটোগ্রাফার লারা ফুলার, এবং দুই সন্তান তার শেষ সময়ের সঙ্গী ছিলেন। পরিবার ও শিল্প সমাবেশে তার অবদানকে স্মরণ করে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
ফোর্টের সৃষ্টিগুলি আজও নতুন প্রজন্মের শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তার সুরে মিশ্রিত রিদম ও গীতিকবিতা আধুনিক হিপ-হপের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। ফুগিসের সঙ্গে তার কাজের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় ও আফ্রিকান সঙ্গীতের সংমিশ্রণকে নতুন দৃষ্টিকোণ দিয়েছেন।
ফোর্টের মৃত্যুর পর, চিলমার্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তার পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে একটি স্মারক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই অনুষ্ঠানে তার সঙ্গীতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনা সরাসরি পরিবেশিত হবে।
ফোর্টের ক্যারিয়ারকে সংক্ষেপে বললে, তিনি গ্র্যামি-নামপ্রাপ্ত অ্যালবাম, একাধিক একক রেকর্ড এবং আন্তর্জাতিক ট্যুরের মাধ্যমে সঙ্গীতের জগতে নিজস্ব ছাপ রেখে গেছেন। তার সৃষ্টিগুলি বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে এখনও জনপ্রিয়তা বজায় রেখেছে।
ফোর্টের পরিবার ও বন্ধুরা তার স্মৃতিকে সজীব রাখতে বিভিন্ন দাতব্য প্রকল্পে তার নাম ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে, তরুণ সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য স্কলারশিপ ও কর্মশালা চালু করার কথা বলা হয়েছে।
সঙ্গীত সমালোচকরা ফোর্টের কাজকে “সাংস্কৃতিক সেতু” হিসেবে উল্লেখ করেন, যা পশ্চিমা হিপ-হপ ও আফ্রিকান রিদমকে একত্রিত করে নতুন সুরের জন্ম দেয়। তার সৃষ্টিগুলি আজও বিভিন্ন রেডিও ও টেলিভিশন প্রোগ্রামে ঘূর্ণায়মান।
ফোর্টের মৃত্যু সংবাদটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ভক্ত ও শিল্পী উভয়ই তার অবদানের প্রশংসা করে শোক প্রকাশ করেন। অনেকেই তার সঙ্গীতের মাধ্যমে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।
ফোর্টের শেষকৃত্য চিলমার্কের স্থানীয় সেমেট্রি-তে দাফন করা হবে, যেখানে তার পরিবার ও বন্ধুদের উপস্থিতি প্রত্যাশিত। দাফন অনুষ্ঠানে তার সঙ্গীতের কিছু অংশ বাজানো হবে এবং উপস্থিতরা তার স্মৃতিতে এক মুহূর্তের নীরবতা পালন করবেন।
ফোর্টের জীবনকাহিনী একটি উদাহরণ যে, সঙ্গীতের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও সাফল্য উভয়ই প্রকাশ পেতে পারে। তার সৃষ্টিগুলি ভবিষ্যতে নতুন শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা যায়।



