ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ইরানকে অশুভ ও বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নিতে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানিরা নাগরিক প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের প্রতি হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আরাঘচি টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত পোস্টে এই বিষয়ের ওপর তার অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন।
বুধবার আরাঘচি টেলিগ্রাম চ্যানেলে তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ফ্রান্সের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে তার ফোনালাপের সংক্ষিপ্তসার শেয়ার করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক বিষয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের বর্তমান অস্থিরতা এবং শান্তির অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাছাড়া, ফ্রান্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক কথোপকথনও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে আরাঘচি ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সম্পর্কে বিশদে আলোচনা করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের মধ্যে শান্তি বজায় রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, উভয় পক্ষই স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। এই আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ করে যে, আরাঘচি ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে ইচ্ছুক।
টেলিগ্রাম পোস্টে আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার উসকানিমূলক মন্তব্যকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, এমন মন্তব্যগুলো ইরানের জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এবং দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দেয়। এ ধরনের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ইরানীয় জনগণ ও সরকার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করবে, এ কথায় তিনি জোর দেন।
ইরান সরকার এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাচ্ছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও মন্তব্যের প্রেক্ষিতে। আরাঘচি উল্লেখ করেন যে, ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপের কোনো রূপই ইরানের স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করতে পারবে না এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য জাতীয় সংহতি অপরিহার্য।
এই সতর্কতা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইরানীয় সরকার যে রূঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে, তা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জটিলতা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে, ইরানের প্রতিবাদ আন্দোলন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মনোযোগের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সমন্বয় করা কঠিন হতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, আরাঘচির এই প্রকাশনা ইরানের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পুনঃসংজ্ঞায়িত করতে পারে এবং অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের পুনর্বিবেচনা ঘটাতে পারে। তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফ্রান্সের সঙ্গে চলমান ফোনালাপগুলো ইরানের আঞ্চলিক কৌশলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানীয় সরকার আন্তর্জাতিক ফোরামে তার অবস্থান তুলে ধরতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টেলিগ্রাম পোস্টে উল্লেখ করেছে যে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জাতীয় সংহতি ও জনগণের দৃঢ় সংকল্প অপরিহার্য। আরাঘচি এই দৃষ্টিকোণ থেকে সকল বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মোচন করেছেন। ভবিষ্যতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের রূপান্তর এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠন প্রত্যাশিত।
বিবিসি সূত্র অনুযায়ী, আরাঘচির টেলিগ্রাম পোস্টে প্রকাশিত বিবরণে ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের প্রতি সতর্কতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এই তথ্যগুলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক গতিপথের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।



