22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগুমের মামলায় বিদেশি গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদ ও ভারতে গোপন পাচার প্রকাশ পেয়েছে

গুমের মামলায় বিদেশি গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদ ও ভারতে গোপন পাচার প্রকাশ পেয়েছে

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, গত পনেরো বছরে বাংলাদেশে ঘটিত গুমের ঘটনায় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আটক বাংলাদেশি নাগরিকদেরকে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মীদের দ্বারা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে গোপনে ভারতের দিকে পাঠানো হয়েছে।

কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি সরকারী তদন্তের ফলাফল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী নীতি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের প্রচেষ্টা চালিয়ে, ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতার নামে অবৈধ বন্দি হস্তান্তর ও যৌথ জিজ্ঞাসাবাদের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।

গুমের শিকারদের জবানবন্দি (হাংরি স্ট্রাইক) চলাকালে প্রকাশিত সাক্ষ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরের গোপন বন্দিশালাগুলোতে হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলা বিদেশি কর্মীদের উপস্থিতি নিয়মিত ছিল। বিশেষ করে ডিএফআই এবং র‌্যাবের বিভিন্ন সেলে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় হিন্দিভাষী ও ইংরেজিভাষী কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

একজন শিকারের জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে, র‌্যাবের টিএফআই সেলে আটক থাকার সময় তিনি হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলা বিদেশি কর্মীদের উপস্থিতি দেখে ভয় পেয়েছিলেন। একই ধরনের অভিজ্ঞতা ৮ বছর গুম থেকে ফিরে আসা আরেকজন শিকারও জানান, র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগে হিন্দি ও ইংরেজি ভাষাভাষী কর্মীরা নিয়মিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিতেন।

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী কমিশনের কাছে জমা দেওয়া জবানবন্দিতে জানান, তিনি নিজের সেলের বাইরে হিন্দিভাষী লোকদের কথোপকথন শুনেছেন। তারা বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদের অগ্রগতি ও তথ্য সংগ্রহ নিয়ে আলোচনা করছিলেন, যা শিকারের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ।

কমিশনের প্রতিবেদনে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের গুম ও পরে ভারতের শিলং থেকে উদ্ধারকে আন্তঃসীমান্ত পাচার বা ‘রেন্ডিশন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১০ মার্চ ২০১৫ তারিখে উত্তরা থেকে অপহরণ হওয়ার পর তাকে র‌্যাব সদর দপ্তরের অধীন উত্তরা র‌্যাব‑১ কম্পাউন্ডের টিএফআই সেলে রাখা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৬২ দিন গুম রাখার পর সালাহউদ্দিনকে ভারতের হাতে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের সময় বাংলাদেশি নিরাপত্তা কর্মীরা মুখোশ ব্যবহার করে গোপন পরিচয় বজায় রাখেন, যা দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়।

এই ঘটনার প্রাথমিক দায়িত্বে তৎকালীন র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, অপারেশন বিভাগের সহ-পরিচালক জিয়াউল আহসান এবং ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর আবুল কালাম আজাদকে কমিশন দায়ী করেছে। তাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুমের শিকারের ওপর বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ ও গোপন হস্তান্তর প্রক্রিয়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতিবেদনে প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে।

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের findings এখন সরকারী দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা তা বিচারিক সংস্থা ও পার্লামেন্টের তদারকি নির্ধারণ করবে।

এই বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায়, শিকারের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে গুমের ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আইনি কাঠামোর শক্তিশালীকরণে গুরুত্বারোপ করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments