মেলবোর্নের রড লেভার আরেনায় অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের “মিলিয়ন ডলার ওয়ান পয়েন্ট স্ল্যাম”-এ অপ্রত্যাশিত বিজয়ী হিসেবে নিউ সাউথ ওয়েলসের অ্যামেচার টেনিস খেলোয়াড় জর্ডান স্মিথের নাম উজ্জ্বল হয়েছে। একক পয়েন্টের ম্যাচে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা জ্যানিক সিন্নারের ওপর বিজয় অর্জন করে তিনি অস্ট্রেলিয়ান ডলার এক মিলিয়ন (প্রায় £৪৯৬,৮৩৫) জিতেছেন।
স্মিথের এই জয় কেবল আর্থিক পুরস্কারেই সীমাবদ্ধ না থেকে তাকে বিশ্ব টেনিসের শীর্ষ খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে এক পয়েন্টের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগও দিয়েছে। রড লেভার আরেনায় প্রায় পনেরো হাজার দর্শকের সামনে তিনি নারী বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা আমান্ডা অ্যানিসিমোভাকেও পরাজিত করে শোয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নেন।
চূড়ান্ত ম্যাচে স্মিথের প্রতিপক্ষ ছিলেন তাইওয়ানের ২৪ বছর বয়সী জোয়ানা গারল্যান্ড, যিনি নারী বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১১৭ নম্বরে রয়েছেন। গারল্যান্ডের পথচলা সহজ ছিল না; তিনি পুরুষ বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা আলেকজান্ডার জভারেভ এবং প্রাক্তন উইম্বলডন ফাইনালিস্ট নিক কিরগিওসকে পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই বিশেষ ফরম্যাটে আরেকজন অ্যামেচার খেলোয়াড়ের নামও আলোতে এসেছে। কুইন্সল্যান্ডের স্টেট চ্যাম্পিয়ন অ্যালেক রেভেরেন্টে, যিনি পুরুষ বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে সপ্তম স্থানে থাকা ফেলিক্স অগার-আলিয়াসিমকে পরাজিত করে বড় সাড়া জাগিয়েছেন। রেভেরেন্টের এই জয় তাকে স্মিথের সঙ্গে একটি অতিরিক্ত পুরস্কারের জন্য মুখোমুখি করে, যেখানে বিজয়ীকে নতুন গাড়ি প্রদান করা হয়। শেষ পর্যন্ত রেভেরেন্টে গাড়ি জিতে নেন, তবে স্মিথের এক মিলিয়ন ডলারের জয় অটুট রয়ে যায়।
ইভেন্টের সময় খেলোয়াড়দের মধ্যে হালকা মেজাজের পরিবেশ দেখা গিয়েছে। কিরগিওসের হারের পর র্যাকেট ভেঙে ফেললেও তা হাস্যরসের ছলে করা হয়, যা দর্শকদের মধ্যে হাসি ফোটায়। এছাড়া, পুরুষ বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে থাকা কার্লোস আলকারাজসহ বেশ কয়েকজন পরাজিত খেলোয়াড় রড লেভার আরেনায়ই থেকে টেলিভিশনে চূড়ান্ত ম্যাচটি দেখেন, যা ইভেন্টের প্রতি তাদের সম্মান ও আগ্রহকে প্রকাশ করে।
প্রারম্ভিক ম্যাচে টেনিস কোচ আন্দ্রেস শ্নেইটার পুরুষ বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৩৪ নম্বরে থাকা কোরেন্টিন মুটেটকে পরাজিত করে ইভেন্টের টোন নির্ধারণ করেন। দ্রুতগতির ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে আপসেট ঘটতে থাকে, যেখানে কোর্সের পাশে থাকা সহখেলোয়াড়দের উৎসাহজনক চিৎকার এবং দর্শকদের সমর্থন উভয়ই অপ্রত্যাশিত ফলাফলে ভূমিকা রাখে।
গারল্যান্ডের পারফরম্যান্সও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি মেলবোর্নে সিঙ্গেলস কোয়ালিফিকেশনে প্রথম রাউন্ডে পরাজিত হলেও, ডাবলস ফরম্যাটে পুরুষ ও নারী উভয় দিকের শীর্ষ খেলোয়াড়কে হারিয়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন। তার পরাজয়ের পরেও তিনি অস্ট্রেলিয়ান টেনিসের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।
স্মিথের এই বিজয় তার নিজস্ব স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপের সাফল্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যায়। নিউ সাউথ ওয়েলসের স্টেট চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তিনি স্থানীয় টেনিসের উত্সাহকে জাতীয় স্তরে নিয়ে গেছেন। তার জয় কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ান টেনিসের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
ইভেন্টের শেষ পর্যায়ে, স্মিথ এবং রেভেরেন্টের মধ্যে গাড়ি জয়ের জন্য অনুষ্ঠিত ম্যাচটি তীব্র উত্তেজনা নিয়ে চলেছিল। রেভেরেন্টে শেষ মুহূর্তে অগ্রগতি করে গাড়ি জিতলেও, স্মিথের এক পয়েন্টের জয় এবং এক মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার তাকে আর্থিক ও সুনামিক দিক থেকে অগ্রগামী করে তুলেছে।
এই ধরনের ফরম্যাটের টুর্নামেন্ট টেনিসের প্রচলিত কাঠামোকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে, যেখানে অ্যামেচার ও পেশাদার খেলোয়াড়ের মেলবন্ধন নতুন দর্শককে আকৃষ্ট করে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই উদ্যোগ টেনিসের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এবং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়ক হয়েছে।
পরবর্তী সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মূল ইভেন্টগুলো চালু হবে, যেখানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ খেলোয়াড়দের মুখোমুখি হবে। স্মিথের মতো অ্যামেচারদের জন্য এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যতে আরও বড় স্বপ্নের পথে পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে।



