নরসিংদী জেলার পলাশ থানার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারী স্কুলের মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই ঘোষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদেরকে সরকারি কর্মী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ধারা অনুযায়ী, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বা ইতিমধ্যে কর্মরত কর্মীদের চাকরি বদলযোগ্য হবে না, ফলে তাদের কর্মস্থল ও পদবী স্থায়ী থাকবে।
এই পদক্ষেপটি ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো একটি স্কুলকে সরকারী করা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পূর্ববর্তী বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে মোট তেরটি স্কুলকে সরকারী করা হয়েছিল, যা দেশের শিক্ষা নীতির ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
প্রজ্ঞাপনের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বিদ্যমান বিধি-নিয়ম, যা শিক্ষক-কর্মচারীর আত্তীকরণ প্রক্রিয়াকে সুস্পষ্ট করে। আত্তীকরণ মানে হল, বিদ্যালয়ের কর্মীরা এখন সরকারি বেতন কাঠামো ও সুবিধা পাবে, পাশাপাশি সরকারি নিয়মাবলীর অধীনস্থ হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ভর্তি মৌসুমে দেশে মোট ৭২২টি সরকারী স্কুল কার্যকর ছিল। পলাশের মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সরকারীকরণে এই সংখ্যা ৭২৩ে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের শিক্ষা অবকাঠামোর সম্প্রসারণের একটি সূচক।
সরকারি স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি সেবা, সিলেবাস ও পরীক্ষার মানদণ্ডে একরূপতা নিশ্চিত হবে। এছাড়া, সরকারীকৃত বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত তহবিল ও প্রশিক্ষণ সুবিধা পাওয়া যায়।
পলাশ থানার এই বিদ্যালয়টি এখন থেকে সরকারী নিয়মাবলী অনুসারে পরিচালিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে সেমিস্টার ভিত্তিক মূল্যায়ন, সরকারি পাঠ্যপুস্তক ব্যবহার এবং শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ সেশন।
এই পরিবর্তনটি স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে, কারণ সরকারী স্কুলে ভর্তি হলে টিউশন ফি কমে যায় এবং সরকারী স্কলারশিপের সুবিধা পাওয়া যায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তরের মতে, ভবিষ্যতে আরও বেশ কিছু বিদ্যালয়কে সরকারী করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের শিক্ষা নেটওয়ার্ককে সমগ্রভাবে শক্তিশালী করা যায়।
অভিভাবকদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ হল, নতুন ভর্তি সেশনের আগে বিদ্যালয়ের অফিসে গিয়ে সরকারীকরণ সংক্রান্ত নথি ও ভর্তি শর্তাবলী যাচাই করা। এতে করে ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।
এছাড়া, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্যও এই পরিবর্তনটি একটি নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করে, কারণ সরকারী চাকরির স্থায়িত্ব ও সুবিধা তাদের কর্মজীবনের স্থিতিশীলতা বাড়াবে।
আপনার সন্তান যদি পলাশের এই মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায়, তবে সময়মতো ভর্তি ফরম সংগ্রহ করে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে জমা দেওয়া জরুরি। সরকারীকরণে কোনো অতিরিক্ত শর্ত থাকলে তা বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অফিস থেকে সরাসরি জানানো হবে।
এই পদক্ষেপের ফলে পলাশের শিক্ষার মান উন্নয়নে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে; তবে এখনই স্পষ্ট যে, সরকারীকরণ শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে নতুন সম্ভাবনা উন্মুক্ত করেছে।



