22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাNBR চেয়ারম্যান স্বর্ণের প্রচুরতা ও শূন্য আনুষ্ঠানিক আমদানি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন

NBR চেয়ারম্যান স্বর্ণের প্রচুরতা ও শূন্য আনুষ্ঠানিক আমদানি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান আজ ঢাকা শহরের এনবিআর সদর দফতরে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বর্ণের বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের পেছনে আনুষ্ঠানিক আমদানি না হওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারী রেকর্ডে স্বর্ণের উল্লেখযোগ্য আমদানি না থাকলেও দেশের বাজারে স্বর্ণের পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে, যা আর্থিক শৃঙ্খলা ও শাসনব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বাজুসের সঙ্গে আলোচনার সময় চেয়ারম্যান খান জানান, স্বর্ণের অবৈধ প্রবাহের মূল কারণ হিসেবে কিছু এনবিআর কর্মীর জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি অতীতে স্বর্ণ ও গহনার আমদানি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ছিল, তবু অবৈধ পথে ধাতু দেশের বাজারে প্রবেশ করাতে সক্ষম হয়েছিল।

সরকারের স্বর্ণ নীতি প্রয়োগের পরেও আনুষ্ঠানিক আমদানি প্রত্যাশিত মাত্রায় না পৌঁছানোর বিষয়টি তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বললেন। নীতি অনুযায়ী শুল্ক কমিয়ে বৈধ আমদানি সহজ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তবু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমানে বিদেশি পর্যটকরা যদি স্বর্ণের বার (১১৭ গ্রাম) সঙ্গে আনেন, তবে ১১.৬৬৪ গ্রাম (একটি ভরি) প্রতি টাকায় ৫,০০০ টাকা শুল্ক দিতে হয়, ফলে পুরো বারটির শুল্ক প্রায় ৫০,০০০ টাকার বেশি হয়। অন্যদিকে, স্বর্ণের বৈধ বাণিজ্যিক আমদানিকর্তাদের জন্য প্রতি বার শুল্ক ২০,০০০ টাকা নির্ধারিত। এই পার্থক্য স্বর্ণের দামের উত্থানকে ত্বরান্বিত করেছে।

বাজারে স্বর্ণের দাম বর্তমানে প্রতি ভরি ২,৩২,০০০ টাকার উপরে পৌঁছেছে, যা দেশের রেকর্ড উচ্চ স্তরে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যের উত্থান এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে। বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, জটিল আমদানি প্রক্রিয়া ও উচ্চ শুল্কের ফলে স্বর্ণের দাম বাড়ছে এবং দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতিবেশী ভারত, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের তুলনায় কমপক্ষে ৩০,০০০ টাকা বেশি।

এই মূল্য পার্থক্য অনেক ব্যবসায়ীকে অবৈধ সরবরাহের দিকে ধাবিত করছে। বাজুসের নেতারা উল্লেখ করেছেন, স্বর্ণের শুল্ক ও আমদানি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতার জন্য ক্ষতিকর।

চেয়ারম্যান খান স্বর্ণের বাজারে শাসনব্যবস্থা ও আর্থিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবৈধ আমদানি বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বর্ণ নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন ও শুল্ক কাঠামোর পুনর্বিবেচনা না করলে বাজারে অনিয়মিততা অব্যাহত থাকবে।

এনবিআর ও বাজুসের মধ্যে চলমান আলোচনার মাধ্যমে স্বর্ণের বৈধ আমদানি সহজতর করা, শুল্কের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অবৈধ চ্যানেল বন্ধ করার লক্ষ্যে নীতি সংশোধনের প্রস্তাব করা হবে। স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষার জন্য শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা ও আমদানি প্রক্রিয়ার সরলীকরণে কাজ করা হবে।

অবশেষে, স্বর্ণের বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সরকার, এনবিআর এবং জুয়েলার্স সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল না হলে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং অবৈধ সরবরাহের চাহিদা বাড়বে, যা আর্থিক শৃঙ্খলা ও শাসনব্যবস্থার জন্য হুমকি স্বরূপ।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments