দ্য ডেইলি স্টার আজ ৩৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করছে। এই মাইলফলককে কেন্দ্র করে দেশের প্রখ্যাত নাজরুল গানের শিল্পী খায়রুল অনাম শাকিলের মতামত প্রকাশিত হয়েছে। শাকিলের মতে, দৈনিক সংবাদপত্রটি শুধু তথ্যের মাধ্যম নয়, বরং সংস্কৃতির সঙ্গে তার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন গড়ে তুলেছে।
শাকিল প্রতিদিন সকালে প্রথমে আর্টস ও এন্টারটেইনমেন্ট পৃষ্ঠা খুলে পড়েন। তিনি জানান, এই বিভাগটি তার শিল্পী জীবনের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত এবং তাকে মানসিক শান্তি প্রদান করে। বহু বছর ধরে সঙ্গীত অনুশীলনকারী হিসেবে তিনি এই পৃষ্ঠাকে আনন্দ ও গর্বের উৎস হিসেবে বিবেচনা করেন।
দৈনিকের বস্তুনিষ্ঠতা ও নির্ভুলতার প্রতি শাকিলের উচ্চ প্রশংসা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংবাদপত্রটি শিল্প ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত তথ্যকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করে এবং তা শিল্পীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হয়ে দাঁড়ায়। এই ধারাবাহিকতা শিল্প জগতের জন্য এক ধরনের নির্ভরযোগ্য গাইডের মতো কাজ করে।
শাকিলের মতে, আর্টস ও এন্টারটেইনমেন্ট পৃষ্ঠার মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য শিল্পীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের কাজের স্বীকৃতি পেতে সহায়তা করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঠিক তথ্যের প্রাপ্যতা শিল্পের উন্নয়নে অপরিহার্য।
তবে শাকিলের দৃষ্টিতে সংবাদপত্রের কভারেজে একটি ফাঁক রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার বাইরে অনেক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চলছে, যা যথাযথভাবে আলোচিত হয় না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় সংগঠন ও শিল্পী সমৃদ্ধ কাজ করে, তবে সেগুলোর গল্পগুলো এখনও যথেষ্ট প্রচার পায়নি।
শাকিলের মতে, দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় শুধুমাত্র রাজধানীর ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং সমগ্র বাংলার বিভিন্ন কোণায় সৃষ্টিশীলতা বিকশিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্য ডেইলি স্টার এই বহুমুখী সংস্কৃতিকে আরও বিশদভাবে উপস্থাপন করতে পারবে।
দ্য ডেইলি স্টারের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিবেদক নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংবাদ সংগ্রহের সক্ষমতা প্রদান করে। শাকিল বিশ্বাস করেন, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংবাদপত্রটি দেশের সাংস্কৃতিক দৃশ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারবে এবং স্থানীয় শিল্পীদের স্বীকৃতি বাড়াতে পারবে।
শাকিলের প্রত্যাশা হল, সংবাদপত্রটি ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের অবদানকে সমানভাবে স্বীকৃতি দেবে, তবে বিশেষ করে সংস্কৃতি ও শিল্পের ক্ষেত্রে তার দায়িত্ব আরও বাড়বে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলা সংস্কৃতির পরিচয়কে বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা জরুরি।
বাংলা ভাষা, ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে লেখালেখি করা দরকার, শাকিলের মতে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিষয়গুলোকে যত্নসহকারে উপস্থাপন করলে পাঠকের মধ্যে জাতীয় গর্বের অনুভূতি জাগবে।
সংস্কৃতি সংকটের মুহূর্তে শাকিল বিশ্বাস করেন, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক বিভাগকে বিশেষ দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যখন সমাজে সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়, তখন সংবাদপত্রের ভূমিকা তথ্য সরবরাহ এবং সমাধানের পথ নির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
শাকিলের মন্তব্যের ভিত্তিতে, দ্য ডেইলি স্টারকে এখনো তার ৩৫ বছর পূর্ণ করার পরও নতুন দিক অনুসন্ধান করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সংবাদপত্রটি দেশের প্রতিটি কোণার সাংস্কৃতিক কণ্ঠকে সমানভাবে শোনাবে এবং বাংলা সংস্কৃতির সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।
এইভাবে, খায়রুল অনাম শাকিলের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, দ্য ডেইলি স্টার শুধুমাত্র সংবাদ মাধ্যম নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত একটি সঙ্গী, যা আরও বিস্তৃত ও গভীর কভারেজের মাধ্যমে দেশের শিল্প ও সংস্কৃতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।



