বাংগ্লাদেশের ফুটসাল দল আজ ব্যাংককে অনুষ্ঠিত প্রথম সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতকে ৪-৪ সমতায় বাধা দিল। দুই দলের খেলোয়াড়রা ধারাবাহিকভাবে গোল করে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল, ফলে শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়।
প্রথমার্ধে উভয় দলই সমানভাবে আক্রমণাত্মক খেলায় লিপ্ত হয়ে দু’টি করে গোল করে স্কোর ২-২ করে তুলেছিল। ময়ন প্রথমে বাংলাদেশের পক্ষে গোল করে তাড়া দিল, তবে ভারতের অনমল অধিকারী সমান করে দিল।
এরপর ক্যাপ্টেন রাহবার ওয়াহেদ খান আবার দু’টি করে গোল করে দলের নেতৃত্ব পুনরুদ্ধার করল। রাহবারের দ্বিতীয় গোলের পর ভারতীয় লাসাওম্পুইয়া সমান করে দিল, ফলে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে স্কোর আবার ২-২ হয়ে গেল।
দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের রোলুয়াহ্পুইয়া প্রথমে এক গোলের মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিল। তবে ময়ন দ্রুতই সমান করে দিল, ফলে স্কোর আবার সমান হল। রোলুয়াহ্পুইয়া আবার একবার আরও গোল করে ভারতকে একবার আবার এগিয়ে রাখল।
ম্যাচের শেষের দিকে রাহবারের তৃতীয় গোল দলের জন্য পয়েন্ট সুনিশ্চিত করল, ফলে ৪-৪ সমতায় ম্যাচ শেষ হয়। ক্যাপ্টেন রাহবার ম্যাচের পর প্রকাশ্যে বললেন, “আমরা বেশ কয়েকবার এগিয়ে ছিলাম এবং তা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। দলটি চমৎকার পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তাই এটি টুর্নামেন্টের একটি ভালো সূচনা।”
বাংলাদেশের দলে ইরানি কোচ সাঈদ খোদারাহমি দলের কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তার তত্ত্বাবধানে দলটি শক্তিশালী ভারতীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন তুলতে সক্ষম হয়েছে এবং প্রথমার্ধে দীর্ঘ সময় ধরে ভাল খেলেছে।
ম্যাচে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা কঠিন হার্ড সারফেসে ছোট বল ব্যবহার করে নতুন ফরম্যাটে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ, সহনশীলতা এবং দক্ষতা প্রদর্শন করেছে। এই পারফরম্যান্স থেকে দেখা যায়, দলটি আসন্ন টুর্নামেন্টে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় প্রস্তুত।
সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে মোট সাতটি দেশ অংশগ্রহণ করছে এবং সব ম্যাচই কঠিন পৃষ্ঠে, ছোট বল দিয়ে খেলা হয়, যা প্রচলিত ফুটবলের তুলনায় ভিন্ন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে।
একই ভেন্যুতে একই দিনে অনুষ্ঠিত অন্য উদ্বোধনী ম্যাচে ভূটান ও শ্রীলঙ্কা ৩-৩ সমতায় শেষ করে, টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক স্বরকে আরও দৃঢ় করেছে।
এই ফলাফলগুলো থেকে স্পষ্ট যে, প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলোতে দলগুলো সমানভাবে শক্তিশালী এবং কোনো দলই সহজে জয়লাভের গ্যারান্টি দিতে পারছে না।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশকে পরের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে, যা এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে দলটি ইতোমধ্যে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এই নাটকীয় ড্র টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং উভয় দলই পরবর্তী রাউন্ডে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা করতে পারে।



