রংপুর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় ইমাম সমাবেশে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য একটি নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত পাঁচ ও চুয়ান্ন বছর ধরে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সুযোগ এসেছে, যা দেশের কাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠন করতে পারে।
সমাবেশে উপস্থিত ইমামগণ ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতারা রীয়াজের বক্তব্য শোনার জন্য একত্রিত হন, যেখানে তিনি ঐক্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করার ঐতিহাসিক সাফল্যকে স্মরণ করিয়ে দেন। ঐ ঐক্যকে ভিত্তি করে তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
আলী রীয়াজের মতে, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটারদের জন্য দুটি আলাদা ব্যালট থাকবে। প্রথমটি সাদা রঙের, যেখানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের নাম ও চিহ্ন থাকবে। এই ব্যালটে প্রত্যেক ভোটার নিজের ইচ্ছামতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।
দ্বিতীয় ব্যালটটি গোলাপি রঙের, যা গণভোটের জন্য নির্ধারিত। এতে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ দুইটি বিকল্প থাকবে, এবং ভোটারকে ‘হ্যাঁ’ চিহ্নে টিক দিতে হবে যদি তিনি নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করতে চান। রীয়াজ ব্যাখ্যা করেন, এই গণভোট একটি দরজা, আর দেশের চাবি জনগণের হাতে; চাবি ব্যবহার করে দরজা খুলে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় পথ গঠন করা সম্ভব।
তিনি ইমামগণকে সমাজের নেতা হিসেবে আহ্বান জানান, যাতে তারা সাধারণ মানুষের কাছে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের মূল প্রশ্নটি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। প্রশ্নটি সরল: পুরোনো শাসনব্যবস্থা বজায় রাখতে চান, নাকি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেশ গড়তে চান? রীয়াজ জোর দিয়ে বলেন, নতুন দৃষ্টিকোণ গ্রহণের জন্য ‘হ্যাঁ’ বলা অপরিহার্য, এবং এই বার্তা অন্যদেরও পৌঁছে দিতে হবে।
আলোচনার মধ্যে তিনি ভোটারদেরকে শুধুমাত্র নিজের ভোটই নয়, অন্যদেরও সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে উৎসাহিত করেন। রীয়াজের মতে, ভোটের দিন নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণই দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের মূল চাবিকাঠি হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই-আগস্টে ঘটিত গণঅভ্যুত্থান পরিবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, এবং যদি এই ইচ্ছা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, তবে জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলবে।
সমাবেশের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারমাইকেল কলেজ মসজিদের খতিব মোহাম্মদ আলী সরকার, যিনি অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। রীয়াজের বক্তব্যের পর তিনি ইমামগণকে দেশের উন্নয়নের জন্য একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রতিপক্ষের কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতার কাছ থেকে এই প্রস্তাবের উপর তাত্ক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হয়, তবে বর্তমান শাসনব্যবস্থার ক্ষমতা ও নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে।
ভবিষ্যতে রীয়াজের প্রস্তাবিত দুই ব্যালটের পদ্ধতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, এই পদ্ধতি রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত অবস্থানকে পুনর্গঠন করতে পারে, কারণ ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফলাফল সরাসরি সরকারের কাঠামো পরিবর্তনের ম্যান্ডেট হিসেবে কাজ করবে।
সারসংক্ষেপে, রংপুরে অনুষ্ঠিত ইমাম সমাবেশে আলী রীয়াজের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে, যেখানে ভোটারদের সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন ও ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



