22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিপ্রযুক্তি-সহায়িত নির্যাতনের শিকারদের ডিজিটাল নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে গবেষণার অগ্রগতি

প্রযুক্তি-সহায়িত নির্যাতনের শিকারদের ডিজিটাল নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে গবেষণার অগ্রগতি

কর্নেল টেকের কম্পিউটার ও তথ্য বিজ্ঞানী নিকোলা ডেল প্রযুক্তি-নির্ভর নির্যাতন ও মানব পাচার থেকে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের ডিজিটাল সুরক্ষা পুনর্গঠনে গবেষণা চালাচ্ছেন। তার কাজের মূল লক্ষ্য হল অপরাধীরা কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিকারদের ওপর দূর থেকে আক্রমণ চালায় তা পূর্বাভাস দিয়ে প্রতিরোধের উপায় তৈরি করা।

ডেলের গবেষণায় বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয় যে, অপরাধীরা শিকারদের গোপনীয়তা ভাঙতে স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিভাইসের অবস্থান ট্র্যাকিং ফিচারকে কীভাবে কাজে লাগায়। গাড়ি বা পায়ে অনুসরণ করার বদলে, এখন তারা ডিজিটাল চিহ্নের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুর চলাচল রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এই ধরনের প্রযুক্তি-নির্ভর হুমকি প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রম করে, কারণ অপরাধীরা শিকারদের ডিভাইসের অভ্যন্তরীণ কাজকর্মের গভীর জ্ঞান রাখে।

কম্পিউটার বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ে এই বিষয়টি এখনও যথেষ্ট গবেষণার বাইরে রয়ে গেছে। ডেল উল্লেখ করেন যে, মানব‑কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন দৃষ্টিকোণ থেকে এই ক্ষেত্রটি নতুন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে, যা গবেষকদের জন্য আকর্ষণীয় ও জরুরি দুটোই।

২০১৮ সালে ডেল কর্নেল টেকের মধ্যে “ক্লিনিক টু এন্ড টেক এবিউজ” (CETA) প্রতিষ্ঠা করেন, যা প্রযুক্তি-নির্ভর নির্যাতনের শিকারদের জন্য প্রথম ধরনের বিনামূল্যের পরামর্শ কেন্দ্র। CETA শিকারদের ডিভাইস ও অনলাইন অ্যাকাউন্টে সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করতে সহায়তা করে এবং নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য ব্যবহারিক পদক্ষেপ প্রদান করে।

কেন্দ্রের সেবা শিকারদেরকে তাদের স্মার্টফোন, কম্পিউটার এবং সামাজিক মিডিয়া প্রোফাইলের নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে সাহায্য করে, পাশাপাশি অনলাইন স্টকিং, হ্যাকিং ও পরিচয় চুরি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় শেখায়। এই প্রক্রিয়ায় শিকারদেরকে প্রযুক্তিগত জ্ঞান না থাকলেও সহজে অনুসরণযোগ্য গাইডলাইন প্রদান করা হয়।

ডেলের CETA-তে করা কাজের স্বীকৃতিতে ২০২৪ সালে তাকে ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। এই পাঁচ বছরের পুরস্কারটি মোট $৮ লক্ষ ডলারের, কোনো শর্ত ছাড়াই, এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে।

CETA-তে ডেলের সহযোগী হিসেবে রোসানা বেল্লিনি পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করেন এবং পরে গবেষণা পরিচালক পদে উন্নীত হন। ২০১৯ সালে ডেলের সঙ্গে পরিচয়ের পর বেল্লিনি উল্লেখ করেন যে, ডেলের কাজের পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। বেল্লিনির নেতৃত্বে CETA আরও বিস্তৃত সেবা প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে।

এই উদ্যোগগুলো প্রযুক্তি-নির্ভর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিকারদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল শারীরিক সুরক্ষার পরিপূরক নয়, বরং তাদের স্বনির্ভরতা ও আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনে সহায়ক।

ভবিষ্যতে প্রযুক্তি-নির্ভর নির্যাতনের মোকাবিলায় গবেষণা ও নীতি নির্ধারণে আরও সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ডেল ও তার দল যে ধরণের ব্যবহারিক সমাধান তৈরি করছেন, তা অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নীতি নির্ধারকদের জন্য মডেল হতে পারে, এবং শেষ পর্যন্ত সমাজে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments