মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বুধবার সন্ধ্যায় কাতারের আল‑উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু সামরিক কর্মীকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম ঘাঁটিতে উপস্থিত সৈন্যসংখ্যা সাময়িকভাবে কমবে। স্থানান্তরের সুনির্দিষ্ট কারণ সরকারী সূত্রে প্রকাশ করা হয়নি।
আল‑উদেইদ ঘাঁটি কাতারে অবস্থিত এবং মধ্যপ্রাচ্যের সর্ববৃহৎ মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর একটি। এখানে প্রায় দশ হাজার মার্কিন সৈন্য নিয়োজিত, যা অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্রে রয়েছে।
একজন কূটনীতিকের মতে, এই পদক্ষেপটি কোনো বাধ্যতামূলক আদেশ নয়, বরং সামরিক অবস্থান ও প্রস্তুতিতে পরিবর্তন আনার অংশ। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ তিনি জানেন না।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ের ওপর কোনো মন্তব্য করেনি এবং তৎক্ষণাৎ কোনো অফিসিয়াল উত্তর প্রদান করেনি।
ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আক্রমণ চালানোর সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে এবং এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটে হামলা হতে পারে বলে সতর্কতা জানিয়েছে।
ইরানের একজন কর্মকর্তা জানান, তেহরান অঞ্চলীয় দেশগুলোকে অনুরোধ করেছে যাতে তারা ওয়াশিংটনকে ইরানে সরাসরি আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখে। এই অনুরোধের পেছনে ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগকে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার একটি সূচক।
ইসরায়েলি সরকারের একটি সূত্র প্রকাশ করেছে যে, মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে ইরানের সরকার পতনের সম্ভাবনা অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
মনে রাখা দরকার, পূর্বে ইরানের পারমাণবিক সুবিধায় আক্রমণ ঘটার সময়ও যুক্তরাষ্ট্র একই ঘাঁটি থেকে কিছু সৈন্যকে স্থানান্তর করেছিল। সেই সময়ের মতোই, বর্তমান সেনা সরানোর ঘটনাটিও একই ধরনের নিরাপত্তা বিবেচনার ফলাফল হতে পারে।
এই পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সরকারীভাবে প্রকাশ না করা সত্ত্বেও, ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব এবং পূর্বের অনুরূপ ঘটনা বিবেচনা করে, বিশ্লেষকরা এটিকে অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যের পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে দেখছেন।
অবশেষে, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরায়েলসহ বহু দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সংযোগে এই পরিবর্তন নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশকে প্রভাবিত করবে।



