বাহরাইনের একটি বাসায় পোস্টাল ব্যালটের অনিয়মিত বিতরণ নিয়ে অভিযোগ উঠার পর, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বুধবার মিডিয়ার প্রশ্নের জবাবে তদন্তের আদেশ জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্তে লিপ্ত হতে বলা হয়েছে। ফলাফল কী হবে তা এখনও পরিষ্কার নয়।
বিএনপি নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে এই অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদেশে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ব্যালট পেপার নিয়ন্ত্রণ করে এবং পোস্টাল ব্যালটের বিতরণে ত্রুটি ঘটছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি নির্বাচন কমিশনকে তদন্তের প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা বিএনপির দাবিকে স্বীকার করে তদন্তের নিশ্চয়তা দেন। তারা ব্যাখ্যা করেন, পোস্টাল ব্যালট বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে বিতরণ হয় এবং বর্তমান প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটি রয়েছে। কমিশন কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তারা বাহরাইনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
বাহরাইনের সরকার থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টে উল্লেখ আছে, পোস্টাল ব্যালটের বিতরণে সমস্যার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার স্বীকৃতি জানিয়ে আরও বিশদ তদন্তের পর রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলস্বরূপ, ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ইচ্ছুক প্রায় পনেরো লক্ষ ভোটার রয়েছে, যা কোনোভাবে কম নয়। তিনি স্বীকার করেন, এই প্রচেষ্টায় কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং কেউ যদি এই প্রক্রিয়াকে অপব্যবহার করার চেষ্টা করে, তা অস্বাভাবিক নয়। তাই, অপব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
তাঁর মতে, তদন্তের অগ্রগতি এখনও স্পষ্ট নয়, তবে ইনকোয়ারি চালু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কতটুকু কাজ হয়েছে তা তিনি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছেন না, তবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালটের গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ভোটাররা তা ব্যবহার করে ভোট দেন এবং পরে ‘বাই-পোস্ট’ নামে ভোটের ফলাফল পাঠায়। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ মিশনের ভূমিকা সীমিত, তবে মিশনকে বিষয়টি নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ব্যালটের বিতরণে গুরুতর ত্রুটি বা বিদেশি হস্তক্ষেপ ছিল, তবে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে এবং বিএনপির অভিযোগকে শক্তিশালী করতে পারে। অন্যদিকে, যদি তদন্তে কোনো ভুল প্রমাণ না পাওয়া যায়, তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
অবশেষে, সব সংশ্লিষ্ট পক্ষই বিষয়টি দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনগণের বিশ্বাস বজায় থাকে।



