ঢাকার বাড্ডা এলাকায় মঙ্গলবার দু’টি গুলির রাউন্ড চালানো হয়, যার লক্ষ্য ছিল এমজেড হাসপাতালের পেছনে নির্মাণাধীন একটি বেসরকারি ভবন। গুলিবর্ষণ থেকে কোনো প্রাণহানি বা আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পুলিশ উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করে।
বাড্ডা থানা ওসির মতে, গুলি চালানো স্থানে বর্তমানে ‘রয়েল মিশন বিল্ডার্স’ কোম্পানি একটি আবাসিক প্রকল্পের কাজ চালাচ্ছে। ঐ ভবনের নিকটে একসময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় অফিস ছিল, তবে তা পরে আফতাবনগরে স্থানান্তরিত করা হয়। তাই গুলির লক্ষ্য এনসিপি অফিস নয়, বরং নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় অবস্থিত মালিকের অফিস ছিল।
অধিক তথ্য জানাতে গিয়ে ওসি উল্লেখ করেন, গুলিবর্ষণের পেছনে স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যরা জড়িত, যারা চাঁদা (ট্যাক্স) আদায়ের জন্য গুলি চালায়। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া সূত্রে বলা হচ্ছে, মেহেদীর লোকজন এই কাজের জন্য উপস্থিত ছিল।
এনসিপি নির্বাচনী মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলমও ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে না গড়িয়ে, জানাতে বলেন যে গুলি চালানো স্থানটি বাড্ডা ৩৮ নং ওয়ার্ডের এনসিপি সাংগঠনিক অফিসের কাছাকাছি, তবে তা কোনো নির্বাচনী অফিস বা নাহিদ ইসলামের অফিস নয়। তিনি আরও যোগ করেন, গুলিবর্ষণের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংযোগ নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাতও ফেসবুকে একই বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, গুলি চালানো স্থানটি এমজেড হাসপাতালের পেছনে, মর্নিংস্টার স্কুলের পাশে একটি বেসরকারি ভবনের নিচতলায় অবস্থিত, এবং তা নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী অফিসের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তবে গুলিবর্ষণ করা অফিসের নিকটে এনসিপি ৩৮ নং ওয়ার্ডের অফিস রয়েছে।
পুলিশের মতে, গুলিবর্ষণের পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করা হয়। গুলির সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা, ব্যবহার করা অস্ত্রের ধরন এবং গুলিবর্ষণের উদ্দেশ্য নির্ধারণে ফরেনসিক দল কাজ করছে। বর্তমানে কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়নি; তবে গুলিবর্ষণের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে, থানা পুলিশ গুলিবর্ষণের পেছনের গোপন নেটওয়ার্ক উন্মোচনে কাজ চালিয়ে যাবে। গুলিবর্ষণের ফলে আশেপাশের বাসিন্দা ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও, দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি শীতল করা সম্ভব হয়েছে।
এই ঘটনার পর, এনসিপি স্থানীয় শাখা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের বিরোধে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষই স্পষ্ট করে বলেছে যে গুলি চালানো স্থানটি এনসিপি নির্বাচনী অফিস নয়, এবং ঘটনাটিতে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নয়।
পুলিশের তদন্ত চলমান থাকায়, গুলিবর্ষণের সম্পূর্ণ কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণে সময় লাগতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, গুলিবর্ষণকে স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অর্থ সংগ্রহের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর, বাড্ডা এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি তীব্রভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত গার্ড ও নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। গুলিবর্ষণের ফলে কোনো শারীরিক ক্ষতি না হলেও, স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা বাড়ে, যা দ্রুত শাসনব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশমিত করা হয়েছে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুলিবর্ষণের সব দিক বিশ্লেষণ করে, প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন হিংসাত্মক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ ও তথ্য শেয়ারিংয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।



