বহু বছর ধরে হিন্দি চলচ্চিত্রে সামাজিক দৃষ্টিকোণযুক্ত চরিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর, সম্প্রতি লিংকডইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় হয়ে কাজ, উদ্দেশ্য ও ব্যক্তিগত বিকাশ নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার এই পদক্ষেপটি চলচ্চিত্র ও সামাজিক মিডিয়ার সীমা ছাড়িয়ে একটি পেশাগত নেটওয়ার্কে তার উপস্থিতি বাড়াবে।
ভূমি পেডনেকরের চলচ্চিত্র যাত্রা তার প্রথম ছবির সঙ্গে শুরু হয়, যখন তিনি ‘ডাম লাগা কে হাইশা’তে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর তিনি ‘টয়লেট: এক প্রেম কাথা’, ‘বালা’, ‘বধাই দো’, ‘থ্যাঙ্ক ইউ ফর কমিং’ এবং ‘ভক্ষক’ সহ বিভিন্ন ধরণের ছবিতে কাজ করে দর্শকের প্রশংসা অর্জন করেন। এই ছবিগুলোতে তিনি মূলধারার আকর্ষণ এবং সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা দুটোই একসাথে তুলে ধরেছেন।
তার অভিনয় ক্যারিয়ারকে সমর্থন করে তিনি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে তিনি ‘ক্লাইমেট ওয়ারিয়র’ নামে একটি ডিজিটাল প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা টেকসইতা ও জলবায়ু সচেতনতা বাড়াতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গল্প সংগ্রহ করে প্রকাশ করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টাকে আলোকিত করেন।
লিংকডইনে যোগদানের মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই প্ল্যাটফর্মটি তাকে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিকাশের গল্প শেয়ার করার সুযোগ দেয়। তিনি বলছেন, লিংকডইন এমন একটি স্থান যেখানে তিনি শুধুমাত্র অভিনেত্রী হিসেবে নয়, পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে নিজের স্বর খুঁজে নেওয়া একজন মানুষ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন।
অভিনয় ছাড়াও তিনি উদ্যোক্তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তার উদ্যোগগুলোতে তিনি তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে উদ্বুদ্ধ করেন এবং শিল্পের মধ্যে লিঙ্গ সমতা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সব কাজ তাকে স্ক্রিনের বাইরে একটি শক্তিশালী ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিত করেছে।
ক্লাইমেট ওয়ারিয়র প্রকল্পটি ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে টেকসই জীবনযাত্রার ধারণা ছড়িয়ে দেয় এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাফল্যকে তুলে ধরে। প্রকল্পের লক্ষ্য হল পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যাগুলোকে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করে সাধারণ মানুষকে সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা।
ভূমি পেডনেকর তার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে তার বর্তমান কাজের সঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার চরিত্রের মাধ্যমে বহু জীবন অভিজ্ঞতা অর্জন করা সত্ত্বেও, সবচেয়ে বড় বিকাশ তার স্ক্রিনের বাইরে করা কাজ থেকে এসেছে।
প্রারম্ভিক ক্যাস্টিং সহকারী থেকে অভিনেত্রী, এরপর উদ্যোক্তা এবং পরিবেশ কর্মী হিসেবে তার যাত্রা তাকে বহুমুখী দায়িত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, এই সব অভিজ্ঞতা তাকে ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে সমৃদ্ধ করেছে এবং এখন তিনি লিংকডইনে এই সমৃদ্ধি শেয়ার করতে চান।
লিংকডইনে তিনি সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, বিনোদন শিল্পে লিঙ্গ প্রতিনিধিত্ব এবং জলবায়ু সংক্রান্ত তার চলমান কাজের ওপর আলোকপাত করতে পরিকল্পনা করেছেন। অন্যান্য সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের তুলনায় লিংকডইন দীর্ঘমেয়াদী, চিন্তাশীল আলোচনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ প্রদান করে।
এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তার অনুসারীদের জন্য একটি শিক্ষামূলক সুযোগ তৈরি করবে, যেখানে তারা তার পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে অনুপ্রাণিত হবে। তার এই উদ্যোগটি বিনোদন জগতের বাইরে একটি সামাজিক দায়িত্বের মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ভূমি পেডনেকরের লিংকডইন যাত্রা তার বহুমুখী ক্যারিয়ারকে এক নতুন মাত্রা দেবে, যেখানে তিনি শিল্প, নেতৃত্ব এবং পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে একত্রে উপস্থাপন করবেন। তার এই পদক্ষেপটি তরুণ শিল্পী ও উদ্যোক্তাদের জন্য একটি উদাহরণস্বরূপ পথপ্রদর্শক হতে পারে।



