27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগোপালগঞ্জে জমি বিক্রির টাকার জন্য বাবা-মাকে জ্যান্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা, দুই ছেলে...

গোপালগঞ্জে জমি বিক্রির টাকার জন্য বাবা-মাকে জ্যান্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা, দুই ছেলে কারাগারে

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় বসবাসরত সত্তার মোল্লা ও তার স্ত্রী আসমা বেগমের ওপর জমি বিক্রির টাকা না পেলে দুই পুত্র রাসেল ও রানা শারীরিক হিংসা চালিয়ে তাদের উঠানে কবর খুঁড়ে জ্যান্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে আদালতের আদেশে দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় সত্তার মোল্লা জানান, ছেলেরা টাকা না দিলে রাগে বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্ত্রীর ওপর মারধর করে। মারধরের মাঝখানে তারা উঠানে গর্ত খুঁড়ে দুজনকে কবরের নিচে বসিয়ে জীবিত অবস্থায় মাটিতে ঢেকে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।

মোল্লা ও আসমা বেগমের মতে, গর্তটি প্রায় এক মিটার গভীর ছিল এবং ছেলেরা গর্তে মাটি ঢেলে কবরের আকার তৈরি করে। চিৎকারের প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, ফলে কবরের কাজ থেমে যায় এবং দুজনকে বাঁচানো যায়।

প্রতিবেশী আক্কাস ভূঁইয়া জানান, গর্তটি ইতিমধ্যে খুঁড়া অবস্থায় ছিল এবং ছেলেরা তা ব্যবহার করে কবর তৈরির চেষ্টা করছিল। তিনি বলেন, গর্তের চারপাশে মাটি ছড়িয়ে দেওয়া এবং গর্তের গভীরতা মাপতে গিয়ে সত্যিই কবরের প্রস্তুতি দেখা যায়।

আসমা বেগমের বয়স প্রায় ষাটের কাছাকাছি এবং তিনি ও স্বামী সত্তার মোল্লা মিলিয়ে ছয়টি সন্তান লালন-পালন করেছেন। বড় ছেলে রাসেল ও মাঝের ছেলে রানা দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে লোভের কারণে বাবা-মাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছেন বলে প্রতিবেশীরা জানান।

সপ্তাহের শুরুতে সত্তার মোল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে, এবং পরের দিন দুপুরে আদালতে হাজির হয়ে তাদের জেলখানায় স্থানান্তরের আদেশ পায়।

থানার ওয়েস্টার্ন চিফ, মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই রাসেল ও রানা গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন, তদন্ত চলাকালীন গৃহস্থালীর সম্পত্তি ও আর্থিক নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আসামি দুজনের বিরুদ্ধে গৃহ হিংসা, আত্মহত্যা প্রচেষ্টা, এবং জ্যান্ত কবর দেওয়ার অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পরবর্তী আদালত শুনানি আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত, যেখানে প্রমাণ-সামগ্রী ও সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গোপালগঞ্জের ডিপার্টমেন্টাল তদন্ত ইউনিটও ঘটনাস্থলে ফরেনসিক পরীক্ষা চালাবে, যাতে গর্তের গভীরতা, মাটির বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য রক্তের চিহ্নের তথ্য সংগ্রহ করা যায়। এই তথ্য আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

বেসামরিক দিক থেকে, আসমা বেগম ও সত্তার মোল্লা বর্তমানে সরকারের প্রদত্ত একক কেয়ার হাউসে বাস করছেন। স্থানীয় সামাজিক সেবা বিভাগ তাদের মৌলিক সহায়তা প্রদান করছে এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে গোপালগঞ্জে সম্পত্তি বিরোধে হিংসা ও মানবিক অপরাধের ঝুঁকি স্পষ্ট হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করেছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments