20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যাচার্য সেলিম আল‑দীনের ১৯তম প্রয়াণ দিবস উদযাপন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যাচার্য সেলিম আল‑দীনের ১৯তম প্রয়াণ দিবস উদযাপন

১৪ জানুয়ারি বুধবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যাচার্য সেলিম আল‑দীনের ১৯তম প্রয়াণ দিবসের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে স্মরণযাত্রা, পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং একাডেমিক সেমিনারসহ নানা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমর্থনেও এই দিনটি বিশেষভাবে সাজানো হয়।

এই বছরের মূল থিম ছিল “ছুটে যেতে যেতে থমকে দাঁড়ায় একজনা”—যা সেলিম আল‑দীনের শিল্পী জীবনের একান্ত দৃষ্টিকোণকে তুলে ধরে। থিমটি কর্মসূচির সূচি, বক্তৃতা এবং আলোচনার বিষয়বস্তুর সঙ্গে সমন্বিতভাবে উপস্থাপিত হয়।

সকাল দশটায় পুরাতন কলা ভবনের চত্বর থেকে স্মরণযাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক উদ্বোধন করেন এবং অংশগ্রহণকারীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পথ অতিক্রম করে কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন সেলিম আল‑দীনের সমাধিতে পৌঁছায়।

সমাধি পর্যন্ত যাত্রা চলাকালীন অংশগ্রহণকারীরা সেলিম আল‑দীনের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো স্মরণ করে, এবং শেষমেশ সমাধি সীমানায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এই অর্পণটি তার শিল্পকর্মের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

স্মরণযাত্রার পর, পুরাতন কলা ভবনের সেট ল্যাব কক্ষে এক ঘণ্টা পরে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের বিষয় ছিল “সেলিম আল‑দীনের বাংলা নাট্য ও পোস্ট‑কলোনিয়াল আত্মপরিচয়” এবং এতে প্রবন্ধটি অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম উপস্থাপন করেন।

সেমিনারটি অধ্যাপক হারুন আর রশীদ খান সভাপতিত্বে পরিচালিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্ক এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ নিজার, যারা সেলিম আল‑দীনের নাট্যদৃষ্টিভঙ্গি এবং তার পোস্ট‑কলোনিয়াল বিশ্লেষণ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

দিনব্যাপী বিভিন্ন বিভাগ থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা স্মরণযাত্রা, পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সেমিনার প্রত্যেকটি অংশে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে, যা অনুষ্ঠানের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করে।

নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি ড. ফাহমিদা আক্তার অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে সেলিম আল‑দীনের অবদানের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সেলিম আল‑দীনের নাম বাংলা নাট্যের ইতিহাসে অমর এবং তিনি এই বিভাগটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

ড. আক্তার আরও বলেন, সেলিম আল‑দীনের রচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ ও লোককাহিনীর মহাকাব্যিক উপাদান যুক্ত হয়েছে, যা তাকে রবীন্দ্রোত্তর যুগের শীর্ষ নাট্যকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার কাজগুলো আজকের নাট্যশিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে।

এই অনুষ্ঠানগুলো ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সেলিম আল‑দীনের শিল্পী দৃষ্টিভঙ্গি ও তার পোস্ট‑কলোনিয়াল চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে নাট্যশিক্ষা ও গবেষণায় তার পদ্ধতি ও দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা যেতে পারে।

আপনার যদি কোনো নাট্যকর্মে পোস্ট‑কলোনিয়াল থিম যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকে, তবে সেলিম আল‑দীনের রচনায় দেখা গৃহীত পদ্ধতি ও কাঠামো থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারেন। আপনার মতামত বা প্রশ্ন থাকলে মন্তব্যে শেয়ার করুন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments