মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন আজ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, গাজা অঞ্চলে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (ISF) অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার তিনটি স্পষ্ট শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেবে না এবং বর্তমানে বিষয়টি আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।
উল্লেখিত শর্তগুলো সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রকাশ না করলেও, হোসেন জোর দিয়ে বলেন যে, এই শর্তগুলো পূরণ না হলে বাংলাদেশ কোনোভাবে অংশগ্রহণ করবে না। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোন নির্দিষ্ট সেনা বা নিরাপত্তা ইউনিটকে এই উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত করা হবে তা নির্ধারিত হয়নি।
উল্লেখযোগ্য যে, গাজা অঞ্চলে ISF গঠন সংক্রান্ত আলোচনাটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর থেকে গরম বিষয় হয়ে উঠেছে। হোসেনের মতে, বাংলাদেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হতে চাইবে যদি পরিবেশটি নির্ধারিত শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
অধিকন্তু, উপদেষ্টা interim সরকারী মেয়াদের শেষের দিকে এই বিষয়টি আলোচনার সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে জানান যে, মেয়াদটি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে, তবে বর্তমান সরকার এখনও কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের কূটনৈতিক স্বার্থ এবং নিরাপত্তা স্বার্থ এক রাতের মধ্যে পরিবর্তিত হয় না এবং সরকার এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না যা জাতীয় স্বার্থের বিরোধী।
হোসেনের মন্তব্যে ISF-কে কেবল বাংলাদেশই নয়, সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গাজা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগটি বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয় এবং একক দেশের সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ নয়।
চিফ অ্যাডভাইজারের প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলমেরাও একই দিনে এই বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়ে দেন যে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গাজা জন্য ISF গঠন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ স্বীকৃতি দেয় এবং কিছু মুসলিম দেশ এই বাহিনীতে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এই প্রসঙ্গে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশ তাদের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে অবদান রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে বাংলাদেশ এখনও তার অংশগ্রহণের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছে।
গাজা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ISF-র গঠন ও কার্যক্রমের সময়সূচি ও মাইলস্টোনগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমন্বয়ে নির্ধারিত হবে বলে আশা করা যায়। বাংলাদেশ সরকার এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে কীভাবে পদক্ষেপ নেবে তা নির্ধারণ করবে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ গাজা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তিনটি নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা চলমান থাকবে এবং সরকার জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।



