19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগাজা সংঘাতে ট্রাম্পের জোটে বাংলাদেশি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত এখনও অমীমাংসিত

গাজা সংঘাতে ট্রাম্পের জোটে বাংলাদেশি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত এখনও অমীমাংসিত

গাজা অঞ্চলে চলমান সংঘাতের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত সামরিক জোটে বাংলাদেশি সেনা যুক্ত করার বিষয়ে আজ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জাতীয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ঢাকা শহরে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান।

ট্রাম্পের সরকার গাজার ওপর ইসরায়েলি আক্রমণ থামাতে আন্তর্জাতিক সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে এবং কয়েকটি মুসলিম দেশকে এই জোটে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তাব রেখেছে। তবে এই প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোকে তাদের অভ্যন্তরীণ আইন ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ঐতিহাসিকভাবে গাজা ও ফিলিস্তিন সমস্যায় সমর্থনমূলক অবস্থান গ্রহণ করেছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে দুই রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সামরিক জোটের প্রস্তাবকে স্বীকৃতি দেওয়া বা না দেওয়া দেশের কূটনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, গাজা সংঘাতে ট্রাম্পের জোটে বাংলাদেশি সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো সরকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত পর্যালোচনা প্রয়োজন।

উপদেষ্টা আরও জানান, সেনা পাঠানোর বিষয়টি সংবিধানিক বিধান ও পার্লামেন্টের অনুমোদনের অধীন। তাই সরকারকে প্রথমে আইনসভা সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংগ্রহ করতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো সামরিক মিশন শুরু করা সম্ভব নয়।

বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সরকারকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দল স্পষ্টভাবে গাজা জোটে অংশগ্রহণের পক্ষে বা বিপক্ষে মত প্রকাশ করেনি।

আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই গাজার পরিস্থিতিতে নিজস্ব কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। ভারত সাম্প্রতিক সময়ে ক্রীড়া ও অন্যান্য ক্ষেত্রের মাধ্যমে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করছে, আর পাকিস্তান ট্রাম্পের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে বলে জানা যায়। এই পার্থক্য বাংলাদেশকে তার নিজস্ব কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য করছে।

ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিবাদ আন্দোলন ও তেহরানের সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা বাংলাদেশের কূটনৈতিক নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রতিবেশী দেশের অবস্থান বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বৈশ্বিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র গাজার সংঘাত সমাধানে বহুপাক্ষিক সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। তবে বহু দেশ এই ধরনের হস্তক্ষেপকে মানবিক সংকট বাড়ানোর ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশকে এই দ্বিমুখী চাপে তার নীতি নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

গাজা সংক্রান্ত এই আলোচনার পাশাপাশি, উপদেষ্টা বিদেশি নাগরিকদের জন্য অন-আ্যারাইভাল ভিসা বন্ধের সিদ্ধান্তের কথাও জানান। এই পদক্ষেপটি দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, কাতারের মার্কিন ঘাঁটি থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশনা ও তেহরানের সহায়তা পথে ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও একই ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়। এসব বিষয় একসাথে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কৌশলকে প্রভাবিত করছে।

পরবর্তী সময়ে সরকার পার্লামেন্টের সামনে গাজার জোটে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই কোনো সিদ্ধান্ত নেবে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সারসংক্ষেপে, গাজা সংঘাতে ট্রাম্পের সামরিক জোটে বাংলাদেশি সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো সরকারী অনুমোদন নেই। জাতীয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও কূটনৈতিক পর্যালোচনা এখনও চলমান। ভবিষ্যতে পার্লামেন্টের অনুমোদন ও আন্তর্জাতিক চাপের ভিত্তিতে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

৭৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বাংলানিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments