মোবাইল ফোনের আমদানি শুল্ক হ্রাসের ফলে বাজারে দাম কমবে বলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব জানান। শুল্ক কমার সঙ্গে সঙ্গে ফোনের মূল্যে স্বল্প সময়ের মধ্যে হ্রাসের আশা করা হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘আইসিটি ও টেলিকম খাতের সংস্কারনামা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও শিল্প প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শুল্কের হ্রাসের মূল বিষয় হলো, মোবাইল ফোনের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। যদিও শুল্ক নির্ধারণের কাজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, তবে তারা এই হ্রাসে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
এই পরিবর্তন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার জন্য গতকাল (মঙ্গলবার) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে শুল্কের নতুন হার ও প্রয়োগের শর্তাবলী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুল্ক হ্রাসের ফলে ৩০,০০০ টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি আমদানি ফোনের দাম আনুমানিক পাঁচ হাজার টাকার কাছাকাছি কমে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অর্থাৎ, শুল্কের ১৫ শতাংশ হ্রাস সরাসরি ভোক্তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে প্রতিফলিত হবে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, দেশের অধিকাংশ ফোন ৩০,০০০ টাকার নিচে স্থানীয় উৎপাদন থেকে আসে। তবে ৩০,০০০ টাকার উপরে মূল্যের ফোনগুলো মূলত বিদেশ থেকে আনা হয় এবং শুল্কের উচ্চতা তাদের দামের প্রধান কারণ। শুল্ক কমিয়ে এই উচ্চমূল্যের ফোনের দামও সাশ্রয়ী করা লক্ষ্য।
দাম কমলে গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য স্মার্টফোনের প্রবেশাধিকার সহজ হবে। এটি ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এবং ই-কমার্স, অনলাইন শিক্ষা ও দূরবর্তী কাজের সুযোগ প্রসারিত করতে সহায়ক হবে।
মোবাইল ফোনের দাম কমে আসা আইসিটি ও টেলিকম খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এখন এই নীতির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ধাপের পরিকল্পনা করবে, যাতে দেশের টেকসই ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করা যায়।



