20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল র‌্যাবের টিএফআই সেল পরিদর্শনের আবেদন মঞ্জুর করে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল র‌্যাবের টিএফআই সেল পরিদর্শনের আবেদন মঞ্জুর করে

আওামী লীগ শাসনামলে গুম‑নির্যাতন মামলার সঙ্গে যুক্ত র‌্যাবের টিএফআই (ট্যাকটিক্যাল ফোর্স ইন্টারভেনশন) সেলকে ঘটনাস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা এই সেল পরিদর্শনের অনুমতি চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১‑এ আবেদন করেন।

বুধবার ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের প্যানেল, যার নেতৃত্বে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, আবেদনটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন জানায়। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, র‌্যাবের টিএফআই সেলকে অপরাধের স্থান হিসেবে প্রমাণের অংশ হিসেবে দেখা হবে এবং তা পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে।

আবেদনকারী আইনজীবী তাবারক হোসেন আদালতে যুক্তি দেন যে, প্রসিকিউশন দল টিএফআই সেলকে ফরমাল চার্জে ঘটনাস্থল হিসেবে উল্লেখ করেছে। তিনি বলেন, এই সেল পরিদর্শনের মাধ্যমে মামলার প্রকৃত প্রকৃতি ও প্রমাণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম.এইচ. তামিমও আদালতে জানায় যে, আসামি পক্ষের আইনজীবীরা র‌্যাবের টিএফআই সেল বা সংশ্লিষ্ট ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আবেদন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাইব্যুনাল এই আবেদন মঞ্জুর করেছে, তবে নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

শর্ত অনুসারে, পরিদর্শনের আগে প্রসিকিউশনকে অবহিত করতে হবে এবং তারা চাইলে উপস্থিত থাকতে পারবে। এই ব্যবস্থা উভয় পক্ষের অধিকার রক্ষা করে এবং প্রমাণ সংগ্রহের স্বচ্ছতা বজায় রাখে।

টিএফআই সেলটি গুম‑নির্যাতন মামলার মূল প্রমাণের অংশ হিসেবে বিবেচিত, তাই আদালত এই সেল পরিদর্শনের অনুমতি দিতে দ্বিধা করেনি। পরিদর্শনের মাধ্যমে সেলটির অবস্থা, ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং সম্ভাব্য প্রমাণের উপস্থিতি যাচাই করা হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১‑এর এই সিদ্ধান্ত গুম‑নির্যাতন মামলায় নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। সেল পরিদর্শনের মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে, যা মামলার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই মামলাটি ২০২২ সালে গুম‑নির্যাতন অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় এবং বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের অধীনে চলমান। আসামি ও প্রসিকিউশন উভয়ই এই পর্যায়ে প্রমাণের যথার্থতা ও বৈধতা যাচাই করতে আগ্রহী।

টিএফআই সেল পরিদর্শনের অনুমোদন পাওয়ার পর, আইনজীবীরা পরিদর্শনের নির্দিষ্ট তারিখ ও পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য প্রসিকিউশন দলের সঙ্গে সমন্বয় করবেন। আদালত ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছে যে, পরিদর্শনের সময় কোনো প্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তন না করা হবে।

পরিদর্শনের সময় সেলটির অভ্যন্তরীণ কাঠামো, সেল দরজা, তালা এবং সম্ভাব্য রেকর্ডিং ডিভাইসের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া, সেল ব্যবহারকারী কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য ও রেকর্ডও সংগ্রহ করা হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের পর, গুম‑নির্যাতন মামলার পরবর্তী ধাপগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত মামলার মূল বিষয়গুলো—যেমন গুমের সময়কাল, নির্দিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও প্রমাণের বৈধতা—পর্যালোচনা করছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১‑এর এই আদেশ গুম‑নির্যাতন মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিদর্শনের ফলাফল মামলার চূড়ান্ত রায়ে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে উভয় পক্ষই এই সুযোগকে যথাযথভাবে ব্যবহার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments