১৪ জানুয়ারি সকালেই নেত্রকোনা সদর উপজেলার নূরুলিয়া গ্রামে এক অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহী থেকে অপহরণ মামলার ওয়ারেন্ট নিয়ে আসা পুলিশ দল, ২২ বছর বয়সী রবিন মিয়া-কে হাতে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেফতার করে, তবে তার স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে তিনি ও তার সঙ্গীকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
সেই ঘটনার পরপরই রবিনের মা রুবিনা আক্তার, ৪২ বছর বয়সী,কে গ্রেফতার করে থানায় হেফাজতে নেওয়া হয়। গ্রেফতারের সময় তাকে কোনো অপরাধের অভিযোগে নয়, বরং তার পুত্রের পালানোর সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য আটক করা হয়েছে।
রবিন মিয়া প্রায় দুই বছর আগে রাজশাহীর এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত বছরের নভেম্বর মাসে উভয়েই নেত্রকোনায় পালিয়ে এসে সেখানে বসতি স্থাপন করেন। এক সময় তাদের পরিবার বিষয়টি মেনে নেয় এবং দাম্পত্য জীবন শুরু করে। তবে মেয়ের বাবা পরে তার এলাকার থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
মেয়ের বাবা যে অপহরণ মামলা দায়ের করেন, তা নিয়ে রাজশাহী থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। মামলার ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট জারি করে, তারা নেত্রকোনায় পৌঁছে রবিনের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় রবিনকে গ্রেফতার করে, হাতে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
গ্রেফতারকৃত রবিনের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের ডাকচিৎকারে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। স্বজনদের সঙ্গে স্থানীয়দের সমাবেশে, তারা পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি করে, হাতকড়া পরা রবিন ও তার সঙ্গীকে ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ পরে হাতকড়া পুনরুদ্ধার করে, তবে দম্পতি ইতিমধ্যে পালিয়ে যায়।
পুলিশের এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর, চল্লিশা ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি মজিবুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় পুলিশ রাতভর দেড়দরবারে দৌড়ে। তবে দম্পতি কোনোভাবে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মজিবুর রহমানের মতে, রবিন রাজশাহীর মেয়ের সঙ্গে গোপনে বিবাহ করে বাড়িতে নিয়ে আসে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে মেয়েটিকে উদ্ধার করলেও, পরে স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে দম্পতি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ অনুরোধের পরেও বিষয়টি সমাধান করতে ব্যর্থ হয়।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসিআই আল মামুন সরকার ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দম্পতি ছিনিয়ে নেওয়ার পরে রবিনের মা রুবিনা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
রুবিনের মা রুবিনার সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে আটক হলেও, তাকে অপরাধের সরাসরি দায়ে না ধরা হলেও, পালিয়ে যাওয়া দম্পতির সন্ধানে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আদালতের সামনে হাজির হওয়ার তারিখ নির্ধারিত হবে।
পুলিশের মতে, দম্পতি কোন নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে নেই, তবে তাদের অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ একত্রে কাজ করে, দম্পতির অবস্থান জানার জন্য তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান বাড়িয়ে দেবে।
এই ঘটনার পর, নেত্রকোনা থানার ওসিআই আল মামুন সরকার আইনগত প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে, সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনতে আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে এমন ধরনের হস্তক্ষেপ রোধে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়।
বিষয়টি এখনো চলমান, এবং পরবর্তী আদালত শোনানির সময়সূচি ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে আপডেট প্রদান করা হবে।



