ঢাকা শহরের কেরানীগঞ্জের বসুন্ধরা বালুর মাঠ এলাকায় ১৪ জানুয়ারি বুধবার ভোরে এক নিরাপত্তা কর্মী ছুরিকাঘাতের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আহমেদ দেওয়ান, হক ডক ইয়ার্ডের নিরাপত্তা কর্মী, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আক্রমণের শিকার হন।
আহমেদ দেওয়ান প্রতিদিনের মতো ভোরের দিকে দক্ষিণ পানগাঁওয়ের নিজ বাড়ি থেকে হক ডক ইয়ার্ডের পথে রওনা হন। তিনি যখন বসুন্ধরা বালুর মাঠে পৌঁছালেন, তখন একদল ছিনতাইকারী তাকে পিঠে ছুরিকাঘাত করে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি তৎক্ষণাৎ সহকর্মী ও পার্শ্ববর্তী লোকদের সাহায্যে তুলে ধরা হয়।
গুরুতর আঘাতে আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত তার পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকগণ সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও, সকালবেলায় তিনি মৃত ঘোষণা করা হয়।
মৃত্যুর পরপরই আহমেদের মেয়ের জামাই মোহাম্মদ পিন্টু জানান, “আমার শ্বশুর হক ডক ইয়ার্ডে ডিউটি করতে যাচ্ছিলেন, পথে ছিনতাইকারীরা তাকে গুলিয়ে হত্যা করেছে।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন যে শ্বশুরের পরিবার এই হিংস্র ঘটনার শোক প্রকাশ করেছে এবং ন্যায়বিচার চায়।
আহমেদ দেওয়ানের পরিবার জানায়, তিনি কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ পানগাঁও এলাকার নাসুর উদ্দিন দেওয়ানের পুত্র। তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হক ডক ইয়ার্ডে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে নিঃশব্দে কাজ করে আসছেন এবং কোনো পূর্বের বিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ, পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মৃতদেহটি মরণোত্তর পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মর্গে স্থানান্তর করা হয়েছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ঘটনাটি জানার পর তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করেছে। থানা কর্মকর্তারা স্থানীয় নিরাপত্তা ক্যামেরা রেকর্ড, সাক্ষী বিবৃতি এবং আক্রমণকারী দলের সনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আক্রমণটি পরিকল্পিতভাবে ঘটেছে এবং ছিনতাইকারীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি সনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ দল আক্রমণকারীদের সনাক্ত করতে এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
আইনি দিক থেকে, মৃতদেহের মরণোত্তর পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানা মামলাটি আদালতে দাখিল করবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, প্রমাণ সংগ্রহের পর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। হক ডক ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষও রাতে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পেট্রোলিং চালু করার কথা বিবেচনা করছে।
এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা সমাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সতর্ক করে দেয় যে, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনি শাস্তি দেওয়া জরুরি।



