20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধযশোরে ১৪ হাজার টুকরা ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই রোহিঙ্গা নারী গ্রেফতার

যশোরে ১৪ হাজার টুকরা ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই রোহিঙ্গা নারী গ্রেফতার

যশোর জেলার সদর উপজেলায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি টিম ১৪ হাজার টুকরা ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে। অভিযানটি রাজারহাট এলাকার বি.কে. সিটি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের পার্শ্ববর্তী এলাকায় পরিচালিত হয়। গ্রেফতারকৃত নারীরা নিজেকে রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচয় দিয়েছে এবং কক্সবাজার থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে যশোরে বিক্রির উদ্দেশ্যে আসা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ডিএনসি যশোর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক পারভীন আখতার জানান, গ্রেফতারকৃত দুই নারীর ব্যাগ থেকে মোট ১৪,০০০ টুকরা ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথম নারীর ব্যাগে প্রায় ৬,০০০ টুকরা এবং দ্বিতীয় নারীর ব্যাগে প্রায় ৮,০০০ টুকরা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে। ট্যাবলেটগুলোকে অবৈধ মাদকদ্রব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তা সঙ্গে সঙ্গে সুরক্ষিত স্থানে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

আখতার উপপরিচালক উল্লেখ করেন, আটক নারীরা রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের সি-ব্লক ও বি-ব্লকের বাসিন্দা। প্রথম নারী সকিনা আক্তার, বয়স ৩০, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা রেজিস্টার ক্যাম্পের সি-ব্লকের বাসিন্দা এবং ছাব্বির আহমেদের মেয়ে। অন্য নারী শুকুতারা, বয়স ২০, একই ক্যাম্পের বি-ব্লকের বাসিন্দা এবং ফজল আহমেদের মেয়ে।

উল্লেখযোগ্য যে, উভয় নারীই নিজেদের রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং কক্সবাজার থেকে যশোরে মাদকদ্রব্য পরিবহনের জন্য এই রুট ব্যবহার করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ডিএনসি কর্তৃক গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই গ্রেফতার করা হয়।

আক্টোবরের শেষের দিকে ডিএনসি যশোরে মাদকদ্রব্যের অবৈধ সরবরাহের ওপর তীব্র নজরদারি চালিয়ে আসছে। এই ধরণের গ্রেফতার পূর্বে একই ক্যাম্পের বাসিন্দা ও অন্যান্য শরণার্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযুক্ত অপরাধমূলক কার্যকলাপের সন্দেহ দেখা গিয়েছে, তবে এই ক্ষেত্রে সরাসরি প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আখতার উপপরিচালক জানান, গ্রেফতারকৃত দুই নারীকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং যশোর কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগে মামলা দায়ের করা হবে এবং আদালতে উপস্থিত হতে হবে।

প্রতিবেদন অনুসারে, কোতোয়ালী থানার তদন্তকারী দল ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃত নারীদের ব্যাগে থাকা মাদকদ্রব্যের বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্লেষণ ফলাফল নিশ্চিত হলে, মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ও ধরন অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণের জন্য আদালতে যথাযথ রায় দেওয়া হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে, ১৪,০০০ টুকরা ইয়াবা ট্যাবলেটের মালিকানা ও পরিবহন অপরাধে শাস্তি কঠোর। আইন অনুসারে, এই পরিমাণের মাদকদ্রব্যের জন্য সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপিত হতে পারে। তবে চূড়ান্ত শাস্তি আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।

অধিকন্তু, ডিএনসি কর্তৃক এই গ্রেফতারকে অঞ্চলের মাদকদ্রব্য প্রবাহ রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যশোর ও কক্সবাজারের মধ্যে মাদকদ্রব্যের অবৈধ সরবরাহের রুটটি পূর্বে বহুবার সন্দেহের মুখে পড়ে, এবং এই ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে যুক্ত অপরাধমূলক কার্যকলাপের খবর সংবেদনশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মিডিয়া উভয়ই এই বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট করার সময় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং কোনো গোষ্ঠীকে বৈষম্য বা কলঙ্কিত না করার জন্য সচেতনতা বজায় রাখছে।

এই ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে, গ্রেফতারকৃত নারীদের আদালতে উপস্থিতি, প্রমাণ সংগ্রহ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি জনসাধারণের নজরে থাকবে। মাদকদ্রব্যের অবৈধ সরবরাহ বন্ধ করতে এবং শরণার্থী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments