১৯৯১ সালের ২৪ জানুয়ারি, স্ক্রিনরাইটার‑ডিরেক্টর‑প্রযোজক জুলি ড্যাশ তার স্বতন্ত্র নাট্যচিত্র ‘ডaughters of the Dust’ স্যান্ডেন্স চলচ্চিত্র উৎসবে উপস্থাপন করেন। এই কাজটি উৎসবে চিত্রগ্রহণের উৎকর্ষতার জন্য পুরস্কার জিতে, আর্থার জাফারকে সেরা ডিরেক্টর‑অফ‑ফটোর্গ্রাফি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
পরবর্তীতে, যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অফ কংগ্রেসের ন্যাশনাল ফিল্ম রেজিস্ট্রিতে এই চলচ্চিত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
‘ডaughters of the Dust’ গুল্লাহ সম্প্রদায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত, যারা দক্ষিণ ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী দ্বীপে আফ্রিকান দাসদের বংশধর। গুল্লাহরা সমুদ্রের লবণাক্ত বাতাসে গড়ে ওঠা স্বতন্ত্র ভাষা, সঙ্গীত ও রন্ধনশৈলীর মাধ্যমে তাদের পরিচয় বজায় রেখেছেন।
চিত্রটি শুরুর ২০শ শতাব্দীর শেষের দিকে স্থাপিত, যখন গুল্লাহ সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তর দিকে কাজের সুযোগের সন্ধানে যাওয়ার অথবা দ্বীপের শান্ত পরিবেশে রয়ে যাওয়ার দ্বিধা তীব্র হয়ে ওঠে। এই সময়ে অনেক পরিবারকে ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য বড় শহরে যাওয়ার প্রলোভন ও ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্বের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা যায়।
ফিল্মের মূল সংঘাত গুল্লাহদের মধ্যে এই দুই পথের মধ্যে বাছাই করার মানসিক দ্বন্দ্বকে তুলে ধরে। কেউ কেউ উত্তরাঞ্চলের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা দেখেন, আবার অন্যরা দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী রীতি‑নীতি ও পারিবারিক বন্ধনের মূল্যায়ন করেন।
বর্ণনাশৈলীর দিক থেকে, চলচ্চিত্রটি রৈখিক কাঠামো থেকে বিচ্যুত হয়ে স্বপ্নময় ও অতীত‑বর্তমানের মিশ্রণ ঘটায়। সময়ের ফ্ল্যাশব্যাক ও বিভিন্ন চরিত্রের দৃষ্টিকোণ একসঙ্গে মিশে, দর্শকের কাছে গুল্লাহ সমাজের জটিলতা ও গভীরতা প্রকাশ করে।
ড্যাশের পরিচালনায় গুল্লাহ সংস্কৃতির সমৃদ্ধি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে; মৌখিক কাহিনী, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, এবং সমুদ্রের তাজা সামুদ্রিক খাবার—বিশেষ করে ক্যাটফিশ ও গাম্বো—এর মাধ্যমে তাদের জীবনধারা উপস্থাপিত হয়। এসব উপাদান চলচ্চিত্রকে শুধু একটি গল্প নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক নথি করে তুলেছে।
চিত্রগ্রহণের ক্ষেত্রে আর্থার জাফার তার আলোকচিত্রের মাধ্যমে দ্বীপের নরম আলো ও ছায়ার সূক্ষ্ম পার্থক্যকে ক্যামেরায় বন্দী করেন। তার কাজের স্বীকৃতি চলচ্চিত্রের সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে দাঁড়ায়।
‘ডaughters of the Dust’ আফ্রিকান‑আমেরিকান ইতিহাসের অদেখা দিককে আলোকিত করে, গুল্লাহদের স্বতন্ত্র পরিচয়কে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে গুল্লাহ সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ ও গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
আজও, স্যান্ডেন্সে প্রথম প্রদর্শনের পর থেকে দশকের বেশি সময় পার হয়ে, এই কাজটি চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সংস্কৃতিবিদদের মধ্যে আলোচনার বিষয়বস্তু রয়ে গেছে। গুল্লাহদের গল্পকে বিশ্বজনীন মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করে, জুলি ড্যাশের এই সৃষ্টিকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।



