ঢাকার বাড্ডা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী অফিসে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতের দিকে গুলিবর্ষণ ঘটেছে। গুলির সূত্রে অফিসের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বাড্ডা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, গুলির লক্ষ্য ছিল নির্বাচনী অফিস, যা চাঁদা না পাওয়ায় দুর্বৃত্তদের দ্বারা নির্ধারিত হয়েছিল। গুলির পরিমাণ দুই রাউন্ডে সীমাবদ্ধ ছিল এবং গুলি চালানোর পদ্ধতি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে করা হয়েছিল।
গুলিবর্ষণের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।现场 থেকে প্রাপ্ত গুলির কেসেট এবং গুলি-ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও, অফিসের জানালা ও দরজায় গুলি-চিহ্ন দেখা গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গুলিবর্ষণকে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত ঘটনা। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী অফিসের লক্ষ্যবস্তু হওয়া কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং আর্থিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা থেকেই এই কাজটি ঘটেছে।
নাহিদ ইসলাম আরও জানান, তিনি এবং তার দল এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবেন।
পুলিশের মতে, গুলিবর্ষণের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণে ফোরেন্সিক বিশ্লেষণ এবং সিসিটিভি ফুটেজের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে, গুলির কেসেট থেকে প্রাপ্ত ব্যালিস্টিক ডেটা ব্যবহার করে অস্ত্রের ধরন ও গুলি চালানোর দূরত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাড্ডা থানা ওসি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনের অধীনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে গুলিবর্ষণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নাম ও ঠিকানা তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে এবং তাদের গ্রেফতার করার জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
অপরাধবিধির ধারা ৩৪১ (অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ) এবং ধারা ৩৪২ (অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ ঘটিয়ে প্রাণহানি না করা) অনুযায়ী মামলাটি দায়ের করা হবে। প্রমাণ সংগ্রহের পর, সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়েরের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, গুলিবর্ষণের সময় উপস্থিত থাকা কয়েকজন সাক্ষীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিবৃতি অনুসারে গুলির উৎস ও পরিকল্পনা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুলিবর্ষণের সঙ্গে যুক্ত সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য বিশেষ তদারকি দল গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনী অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে বাড্ডা এলাকায় অতিরিক্ত পেট্রোলিং চালু করা হয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনুরূপ অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।



