বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং জান্ট অ্যাকসেসরিজ লিমিটেডের মধ্যে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড)‑এ রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপনের জন্য জমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি বেজা সদর দফতরে মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে দুই পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
চুক্তি অনুসারে, জান্ট অ্যাকসেসরিজ লিমিটেড প্রায় ৮০ কোটি টাকার মূলধন দিয়ে পাঁচ একর জমিতে একটি পরিবেশবান্ধব শিল্প কারখানা গড়ে তুলবে। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ রপ্তানিমুখী হওয়ায় উৎপাদিত পণ্যগুলো প্রধানত আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি হবে এবং বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহারকে সর্বনিম্ন স্তরে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালের মে মাস থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কারখানায় পলিউরেথেন ফোম, পলিথিন ফোম এবং পুনর্ব্যবহৃত ফোমের পাশাপাশি গদি, বালিশ, কমফোর্টার এবং জুতোর ইনসোলের মতো ভোক্তা পণ্য উৎপাদন করা হবে। এই পণ্যের কাঁচামারের প্রায় ৯০ শতাংশ বিদেশ থেকে সরবরাহ করা হবে, যার মধ্যে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মালয়েশিয়া থেকে উপকরণ আসবে।
বেজা জানিয়েছে যে, জান্ট অ্যাকসেসরিজের এই উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই শিল্পায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করা সম্ভব হবে। এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদন করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখতে চায়।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বেজার বিনিয়োগ উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী সদস্য সালেহ আহমদ উল্লেখ করেন, এনএসইজেড‑এ এই ধরনের পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ দেশের শিল্প কাঠামোকে আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে। জান্ট অ্যাকসেসরিজের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন স্বাক্ষর করেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।
বেজা বর্তমানে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় সতেরোটি শিল্প প্রতিষ্ঠান কার্যকরী অবস্থায় রয়েছে এবং অতিরিক্ত চব্বিশটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন। এই সংখ্যা দেশের শিল্প উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এবং রপ্তানি ভিত্তিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল জান্ট অ্যাকসেসরিজের কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় ইতিমধ্যে একটি কারখানা পরিচালনা করা। এই উপস্থিতি কোম্পানির লজিস্টিক্স ও রপ্তানি চেইনকে শক্তিশালী করবে এবং দেশের বিভিন্ন শিল্প পার্কের মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে।
বেজা ও জান্ট অ্যাকসেসরিজের এই চুক্তি দেশের শিল্প নীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা প্রকাশ করেছেন। রপ্তানিমুখী উৎপাদন, কম সম্পদ ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনকে একসাথে সংযুক্ত করে এই প্রকল্পটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর বৈচিত্র্য ও স্থায়িত্ব বাড়াতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, ৮০ কোটি টাকার বিনিয়োগ, পাঁচ একর জমিতে পরিবেশবান্ধব কারখানা এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদন পরিকল্পনা নিয়ে জান্ট অ্যাকসেসরিজের এনএসইজেড‑এ প্রবেশ দেশের শিল্প খাতের আধুনিকায়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



