ম্যাঞ্চেস্টার সিটি ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মধ্যে মঙ্গলবারের কারাবাও কাপের ম্যাচে সেমেনিওর দ্বিতীয় গোলটি ভিএআর‑এর দীর্ঘ চেকের পর বাতিল করা হয়। ম্যাচটি ট্যুর্নামেন্টের চতুর্থ রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয় এবং রেফারি ক্রিস কাভানাহ গেমের শেষের দিকে গোলটি অস্বীকার করেন। দেরি পাঁচ মিনিটের বেশি সময় নেয়, কারণ সেমি‑অটোমেটেড অফসাইড টেকনোলজি (SAOT) ব্যবহার করা সম্ভব ছিল না।
ভিএআর‑এর দেরি মূলত ‘এড্জ কেস’ নামে পরিচিত পরিস্থিতির ফলে ঘটেছে, যেখানে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের উপস্থিতি টেকনোলজি ব্যবহারকে বাধা দেয়। সেই মুহূর্তে পেনাল্টি বক্সে একাধিক খেলোয়াড়ের দেহ ছিল, ফলে SAOT সিস্টেমের স্বয়ংক্রিয় লাইন ড্রয়িং কাজ করতে পারল না। রেফারি ও সহায়ক কর্মকর্তারা ঐতিহ্যবাহী ক্রসহেয়ার পদ্ধতিতে ফিরে এসে অফসাইড চেক সম্পন্ন করেন।
চেকের ফলাফল প্রকাশ পায় যে, এর্লিং হ্যালান্ড অফসাইড অবস্থায় ছিলেন এবং তিনি ডিফেন্ডার মালিক থিয়াওকে ধরা দিয়ে খেলায় হস্তক্ষেপ করেছিলেন। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সেমেনিওর গোলটি বাতিল করা হয়, যদিও তা রাতের দ্বিতীয় গোল হতে পারত। যদি SAOT উপলব্ধ থাকত, তবে এই চেকটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারত।
ম্যাঞ্চেস্টার সিটির কোচ পেপ গুআরডিয়োলো এই ঘটনার পর ভিএআর‑এর অমিল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নভেম্বর মাসে লিগের ম্যাচে নিউক্যাসলকে পরাজিত করার সময়ও অফসাইড চেকের জন্য দীর্ঘ সময় লাগেছিল। তদুপরি, গুআরডিয়োলো বলেন যে, সেই ম্যাচে দুইটি পেনাল্টি না দেওয়া হয়েছিল – একটি ২০তম মিনিটে হ্যান্ডবলের জন্য এবং আরেকটি ফিল ফোডেনের ওপর এক ঘণ্টা পরে হওয়া ফাউলের জন্য।
প্রফেশনাল গেম ম্যাচ অফিসিয়ালস লিমিটেড (PGMOL) এর কী ম্যাচ ইনসিডেন্টস (KMI) প্যানেল এই ফোডেনের ওপর হওয়া চ্যালেঞ্জের জন্য পেনাল্টি দেওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেছে। গুআরডিয়োলো জানান যে, পিএমজি-এলের চিফ রেফারিং অফিসার হাওয়ার্ড ওয়েব এই বিষয়টি নিয়ে তাকে ফোন করে ব্যাখ্যা দেবেন। তবে এখন পর্যন্ত PGMOL অথবা সিটি ক্লাব থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাওয়ার্ড ওয়েব পূর্বে স্পষ্ট ত্রুটি দেখা দিলে ক্লাবগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান করেছেন, তবে এই ক্ষেত্রে তিনি কোনো ত্রুটি স্বীকার করেননি বলে জানা যায়। ভিএআর‑এর দীর্ঘ চেক ও ‘এড্জ কেস’ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো পুনরায় আলোচনা করা হবে কিনা তা এখনও অনিশ্চিত, তবে গুআরডিয়োলোয়ের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি ভবিষ্যতে একই ধরনের দেরি ও অসঙ্গতি এড়াতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দাবি করছেন।
এই ম্যাচে সিটি ২-১ গোলে জয়ী হলেও, সেমেনিওর গোল বাতিলের ফলে দলটি এক অতিরিক্ত গোলের সুযোগ হারিয়েছে। ভিএআর‑এর প্রক্রিয়া ও টেকনোলজি ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে, এই ঘটনা ভিএআর‑এর স্বচ্ছতা ও গতি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা পুনরায় তুলে ধরেছে।



