22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিড. রেজা কিবরিয়া গণ অধিকার পরিষদ ত্যাগের কারণ ও ইসরায়েলি তহবিলের দল...

ড. রেজা কিবরিয়া গণ অধিকার পরিষদ ত্যাগের কারণ ও ইসরায়েলি তহবিলের দল থেকে দূরে থাকা

ড. রেজা কিবরিয়া সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে জানান, তিনি গণ অধিকার পরিষদ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ইসরায়েলি তহবিলের সমর্থন পায় এমন কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারছেন না।

কিবরিয়া আগে গণফোরামে সক্রিয় ছিলেন, যেখানে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে যথাযথ মনে করতেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় অভ্যন্তরে মতবিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে, বিশেষত সংসদে এমপি নির্বাচনের প্রশ্নে দুইটি গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এক গোষ্ঠী সংসদে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করলেও অন্য গোষ্ঠী তা সমর্থন করেছিল।

এই বিভাজনের পর কিবরিয়া গণফোরাম ত্যাগ করে অন্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীতে যোগ দেন, তবে তিনি স্বীকার করেন যে এই পরিবর্তনটি সহজ ছিল না এবং দলের মধ্যে চলমান কোন্দল তাকে প্রভাবিত করেছিল।

গণ অধিকার পরিষদে যোগদানের ক্ষেত্রে ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। কিবরিয়া বলেন, চৌধুরীর ব্যক্তিগত অনুরোধে তিনি পরিষদে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন এবং সেখানে কিছুদিন কাজ করেন। তবে তিনি পরিষদে থাকার বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা অনুভব করেননি।

কিবরিয়া স্পষ্ট করে বলেন, ইসরায়েলি তহবিলের উপর নির্ভরশীল দলগুলোতে তিনি আর কাজ করতে চান না। তিনি উল্লেখ করেন, এমন দলগুলো ইসরায়েলি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের নীতি ও কার্যক্রমে স্বতন্ত্রতা হারায়, যা তার রাজনৈতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এই মন্তব্যের পূর্বে কিবরিয়া স্বীকার করেন যে তিনি এই বিষয়টি আগে জানতেন না। তবে মিডিয়ায় মিটিং সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর তিনি নিশ্চিত হন যে ইসরায়েলি তহবিলের প্রভাবের ব্যাপারে তার সন্দেহ সঠিক।

মিডিয়া রিপোর্টে প্রকাশিত মিটিংয়ের বিবরণে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতও মন্তব্য করেন, তিনি বলেন নূরুল হক নূরের সঙ্গে তিনটি ভিন্ন স্থানে মসাদ (মোশাদ) সংক্রান্ত মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই তথ্য কিবরিয়ার সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।

কিবরিয়ার এই পদক্ষেপের ফলে গণ অধিকার পরিষদের অভ্যন্তরে কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। তার প্রস্থানের ফলে পরিষদের সদস্যসংখ্যা কমে যাবে এবং ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে তার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি হারাতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, কিবরিয়ার এই সিদ্ধান্ত অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদেরও একই রকম পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, বিশেষত যারা বিদেশি তহবিলের ওপর নির্ভরশীল দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত। তবে এখনো কোনো দল স্পষ্টভাবে তার মন্তব্যকে সমর্থন বা প্রত্যাখ্যান করেনি।

গণ অধিকার পরিষদে কিবরিয়ার প্রস্থানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনও চলমান। তিনি তার পদত্যাগের চিঠি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জমা দিয়েছেন এবং তার পরিবর্তে নতুন সদস্যের নির্বাচন হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর, ইসরায়েলি তহবিলের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে তাদের আর্থিক উৎসের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করতে বলা হতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিরোধ এড়ানো যায়।

কিবরিয়া শেষ পর্যন্ত বলেন, তিনি যে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনে যুক্ত হতে চাইবেন না, যার নীতি ও আর্থিক কাঠামো ইসরায়েলি স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার এই অবস্থান দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ড. রেজা কিবরিয়ার গণ অধিকার পরিষদ ত্যাগ এবং ইসরায়েলি তহবিলের দল থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত তার রাজনৈতিক নীতির প্রতি দৃঢ়তা এবং দেশের স্বতন্ত্র নীতি রক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে এই পদক্ষেপের প্রভাব কী হবে, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments