চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনকে ‘জামায়াতপন্থী’ বলে সমালোচনা করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রগোষ্ঠী একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। গোষ্ঠীটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানিয়ে, সাম্প্রতিক নিয়োগগুলোকে অবৈধ ও স্বজনপ্রীতিতে ভিত্তিক বলে চিহ্নিত করেছে। এছাড়া তারা সকল বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই মাসে ঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের স্মরণে বর্তমান প্রশাসন নিয়োগ-বাণিজ্যের উৎসব চালিয়ে যাচ্ছে। গোষ্ঠীটি দাবি করে, গত ১৫ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ প্রায় ২৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যদিও প্রকৃত চাহিদা কম ছিল। তদুপরি, অতিরিক্ত ৩০৪টি পদ দ্রুত পূরণ করা হয়েছে, যা স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।
গোষ্ঠী অনুসারে, এই সময়ে মোট ৫৫৪ জনের নিয়োগ করা হয়েছে, যা একক রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে, সহ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহীরা শামীমকে ফাইন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সবচেয়ে স্পষ্ট স্বজনপ্রীতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাত্রদল দাবি করে, এই ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত মান ও গবেষণা পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করছে। তারা আরও জানায়, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সম্পদ অপচয় হচ্ছে এবং merit‑based নিয়োগের নীতি ভঙ্গ হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত আরেকটি বিষয় হল, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বোর্ডের কাজকে ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। গোষ্ঠীটি এই বিষয়টি তুলে ধরে, নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
গোষ্ঠী এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধানদের আপত্তি ও পরিকল্পনা কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নেওয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা দাবি করে, স্বচ্ছ ও ন্যায্য নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো নতুন নিয়োগ করা যাবে না।
এই দাবিগুলোকে কেন্দ্র করে, ছাত্রগোষ্ঠী একটি প্রতিবাদ শিবিরের আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। শিবিরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানাবে, যাতে একত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গোষ্ঠীর দাবি অনুযায়ী, যদি তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে শিক্ষাগত পরিবেশের অবনতি অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষা নীতি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকল্প ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া গড়ে তোলা শিক্ষার গুণগত মান রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
গোষ্ঠীর দাবি অনুযায়ী, যদি উপাচার্য ও সহ-উপাচার্য পদত্যাগ না করেন, তবে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন, যার মধ্যে আইনগত পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত।
এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে: স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত? আপনার মতামত জানিয়ে এই আলোচনায় অংশ নিন।
শিক্ষা বিভাগের অভিজ্ঞ প্রতিবেদক হিসেবে, আমি পরামর্শ দিচ্ছি যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়োগের আগে স্বতন্ত্র তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনা গ্রহণ করে, যাতে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কমে। এছাড়া, নিয়োগের তথ্য সর্বজনীনভাবে প্রকাশ করা উচিত, যাতে সকল স্টেকহোল্ডার তা যাচাই করতে পারে।
অবশেষে, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক টিপস: বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নীতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন এবং কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করুন। এভাবে স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।



