আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১ (আইসিটি‑১) র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছে। আদালত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তিন সদস্যের প্যানেলে আবেদন মঞ্জুর করে, যেখানে র্যাবের গুম‑নির্যাতন মামলার এক দিকের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য আইনজীবীরা সেলটি দেখার অধিকার পাবে। আবেদনকারী হলেন আসামিপক্ষের আইনজীবী তাবারক হোসেন, যিনি গুম‑সংক্রান্ত মামলায় সাতজনের পক্ষে শুনানির অধীনে এই অনুরোধ করেন।
আইসিটি‑১-এ চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সঙ্গে বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। তিনজনই আন্তর্জাতিক অপরাধ ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং এই মামলায় বিশেষ দায়িত্বে নিযুক্ত।
আবেদনটি মূলত টিএফআই সেলকে মামলার অপরাধের স্থান (প্লেস অব অকারেন্স) হিসেবে উল্লেখ করা প্রোসিকিউশন ফাইলের ভিত্তিতে করা হয়। তাবারক হোসেন আদালতে যুক্তি দেন, র্যাবের টিএফআই সেলকে অপরাধের স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে সেলটি পরিদর্শন করা প্রয়োজন। আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করে, প্রোসিকিউশনকে অবহিত করার শর্তে পরিদর্শনের অনুমতি দেয়।
প্রোসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম আদালতে জানান, প্রোসিকিউশন দলও আবেদনকারী আইনজীবীদের অনুরোধের সঙ্গে সেল পরিদর্শনে উপস্থিত হতে চাইলে তা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, প্রোসিকিউশনকে জানিয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নোটিশ ইতিমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে।
আদালতের আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, পরিদর্শনের সময় প্রোসিকিউশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারবেন, তবে তাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। তাবারক হোসেনের মতে, এই ব্যবস্থা উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং মামলার সত্য উদঘাটনে সহায়তা করবে।
একই দিনে মামলার অন্যতম আসামি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলমের জামিন আবেদনও শোনার তালিকায় ছিল। জাহাঙ্গীর আলমের স্বাস্থ্যগত অবস্থা, বিশেষ করে হৃদরোগের সমস্যার কথা উল্লেখ করে, তার আইনজীবী জামিনের অনুরোধ করেন। ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি প্রত্যাখ্যান না করে নথিভুক্ত রাখার আদেশ দেয়, ফলে মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য অপেক্ষা করবে।
আইসিটি‑১-এ এই ধরনের পরিদর্শন অনুমোদন করা অপরাধ মামলায় প্রমাণ সংগ্রহের স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। র্যাবের টিএফআই সেলকে তদন্তের স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং উভয় পক্ষকে সমান সুযোগ প্রদান করা ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিচারকরা উল্লেখ করেছেন।
পরবর্তী পর্যায়ে, আইনজীবীরা টিএফআই সেল পরিদর্শনের জন্য নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে কাজ করবেন এবং প্রোসিকিউশনও উপস্থিতি নিশ্চিত করবে। জামিন আবেদন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আদালত অতিরিক্ত তথ্য ও চিকিৎসা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে। মামলার মূল বিষয়গুলো, বিশেষ করে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ, পরবর্তী শুনানিতে বিশদভাবে উপস্থাপিত হবে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে র্যাবের গুম‑নির্যাতন মামলায় প্রমাণের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আদালত ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় একই রকম ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা নির্দেশ করেছে, যা আইনগত প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে।



