19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধরংপুরে রেকটিফায়েড স্পিরিট পানে তিন দিনে ছয়জনের মৃত্যু

রংপুরে রেকটিফায়েড স্পিরিট পানে তিন দিনে ছয়জনের মৃত্যু

রংপুরে রেকটিফায়েড স্পিরিট পানের ফলে গত তিন দিনে ছয়জনের মৃত্যু ঘটেছে, আর দুইজনের অবস্থা গুরুতর এবং হাসপাতালে ভর্তি। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাজিরহাট থানা ওসি আজাদ রহমান জানান, মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষে রেকটিফায়েড স্পিরিট পানের পর দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রাম থেকে আব্দুল মালেক এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়া থেকে রাশেদুল ইসলাম এই দুজনের নাম। উভয়ই স্পিরিট সেবনের পরই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরবর্তীতে মারা যান।

এর আগে রোববার মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে কয়েকজন রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই রাতে তিনজনের মৃত্যু ঘটে; গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রাম থেকে আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রাম থেকে সোহেল মিয়া এবং রংপুর সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রাম থেকে জাননাত আলি।

এই তিনজনের পাশাপাশি আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বর্তমানে দুইজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণাধীন।

হাজিরহাট থানা ওসি আজাদ রহমানের মতে, মৃতদেহগুলো রাত্রিকালীন সময়ে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়না পরীক্ষার ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়নুল আবেদীনকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জয়নুল আবেদীন চোলাই মদ ও স্পিরিট বিক্রি করতেন এবং মৃত ব্যক্তিরা রোববার রাতে তার বাড়ি থেকে মদ কিনে পেয়েছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, জয়নুল আবেদীন স্পিরিট বিক্রির পাশাপাশি চোলাই মদও সরবরাহ করতেন। মৃতদের পরিবার বলছে, তারা বাড়ি থেকে মদ কিনে পানের পর বাড়িতে ফিরে অস্বস্তি বোধ করে শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় নগরের হাজিরহাট থানা বালারবাজার এলাকায় স্পিরিট সেবনের পর আরেকজনের মৃত্যু ঘটেছে। মানিক চন্দ্র রায়, ৬০ বছর বয়সী, সেদিন স্পিরিট পান করার পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরে মারা যান।

হাজিরহাট থানা ওসি আজাদ রহমান জানান, মানিক চন্দ্র রায়ের মৃত্যু রঙপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটেছে। তিনি স্পিরিট সেবনের পরই শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানা দুটো আলাদা মামলা দায়ের করেছে। বদরগঞ্জ থানা ওসি হাসান জাহিদ সরকার এবং সদর কোতোয়ালি থানা ওসি আব্দুল গফুর উভয়ই মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা স্থানীয় হোমিওপ্যাথিক চেম্বার থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে ব্যবহার করছিলেন। নগরের একটি হোমিও চেম্বারে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান।

অধিক তদন্তের জন্য হোমিও চেম্বার থেকে প্রাপ্ত সামগ্রী বিশ্লেষণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ মাদক ও স্পিরিট সেবন রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments