সুপ্রিম কোর্ট আজ (১৪ জানুয়ারি) পবনা-১ ও পবনা-২ নির্বাচনী সীমানা সংক্রান্ত আপিলের শোনার তারিখ ১৫ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছে। এই শোনার উদ্দেশ্য হল হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে লিফট টু আপিলের আবেদন, যেখানে নির্বাচন কমিশনের গেজেট নোটিফিকেশনকে অবৈধ বলে ঘোষিত হয়েছিল; গেজেটের মাধ্যমে চারটি ইউনিয়ন ও বেরা পৌরসভা পবনা-২ থেকে পবনা-১-এ যুক্ত করা হয়েছিল।
বিচারিক দলের নেতৃত্বে আছেন চিফ জাস্টিস জুবায়ের রহমান চৌধুরী, যিনি চার সদস্যের আপিলেট ডিভিশন বেঞ্চের প্রধান। সংক্ষিপ্ত শোনার পর এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
পবনা-১ নির্বাচনী আসনের জামায়াত-ই-ইসলামি প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেন সোমবার লিফট টু আপিলের পিটিশন দায়ের করেন। তিনি একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পবনা-১ ও পবনা-২ আসনে নির্বাচনী কার্যক্রমের স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার আদেশ চেয়েছেন।
মোমেনের আইনজীবী ইমরান সিদ্দিক আদালতে জানিয়ে বলেন, “আপিলেট ডিভিশন এখনই শোনার তারিখ নির্ধারণ করেছে, কারণ নির্বাচন কমিশন পবনা-১ ও পবনা-২ আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত রাখতে পারে না, যেহেতু এই আদালত থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।” এই বক্তব্যে তিনি নির্বাচন কমিশনের বর্তমান স্থগিতাদেশের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের পবনা জেলায় ১০ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আপিলেট ডিভিশনের সংবিধানিক সীমানা সংক্রান্ত আদেশের ভিত্তিতে পবনা-১ ও পবনা-২ আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তটি আরও নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এর পূর্বে, ৫ জানুয়ারি আপিলেট ডিভিশন গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত সংশোধিত গেজেট নোটিফিকেশনকে স্থগিত করে দেয়। ঐ গেজেট নোটিফিকেশনটি ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনের জন্য দুইটি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছিল।
সেই স্থগিতাদেশের কার্যকারিতা লিফট টু আপিলের শোনার পর্যন্ত বজায় থাকবে, আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে। ফলে পবনা-১ ও পবনা-২ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা, ভোটার তালিকা আপডেট এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে থেমে থাকবে।
এই মামলাটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ পবনা জেলায় আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। উভয় পার্টি ও প্রার্থীরা সীমানা সংক্রান্ত চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে, যা ভোটার বণ্টন ও নির্বাচনী কৌশলকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।
বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছে। শোনার ফলাফল যদি হাইকোর্টের রায়কে বজায় রাখে, তবে গেজেট নোটিফিকেশন বাতিল হয়ে পবনা-১ ও পবনা-২ আসনের বর্তমান সীমানা পুনরায় নিশ্চিত হবে। অন্যদিকে, যদি আপিল সফল হয়, তবে গেজেটের মাধ্যমে নির্ধারিত নতুন সীমানা কার্যকর হতে পারে, যা নির্বাচনী ফলাফলে পরিবর্তন আনতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের শোনার তারিখ নির্ধারণের মাধ্যমে এই বিরোধের সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিচারিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা সকল পক্ষই আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।



